রাজনীতি

খালেদার জাজমেন্ট দিতে টালবাহানা হচ্ছে: জয়নুল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ড ভোগরত খালেদা জিয়ার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি দিতে টালবাহানা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন।

আজ (মঙ্গলবার) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, সরকার তাদের ফরমায়েশ মোতাবেক রায় দেয়ার জন্য দেশের বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এজন্য তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জাজমেন্ট দিতে টালবাহানা করছে। আপিলে যাওয়ার জন্য তারা জাজমেন্ট দিচ্ছেন না। বরং অন্য জায়গা থেকে মামলা এনে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাচ্ছে।

খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জেলে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, সরকার তাদের ফরমায়েশি মোতাবেক রায় দেয়ার জন্য দেশের বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

জয়নুল আবেদীন বলেন, সকালে পত্রিকা খুলে দেখলাম দেশের ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। দেশে অন্যায়ভাবে লুটপাট চলছে। দেশের সব টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। একদিকে এভাবে যখন লুটপাট চলছে ঠিক সেই মুহূর্তে তারা খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে।

এসব সত্ত্বেও খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি আবারো দাবি করেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জয়নুল আবেদীন উপস্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে (খালেদা জিয়া) বের করে আনবো। তাকে বের করে না আনা পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

আজও মেলেনি রায়ের কপি, পেছাল খালেদার আপিল……………………..

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের ষষ্ঠ দিনেও সার্টিফায়েড কপি পাননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ফলে পিছিয়ে গেছে তার আপিল আবেদন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘রায়ের কপি আগামীকাল (বুধবার) পেলে পরদিন আপিল ফাইল করা হবে।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে ওকালতনামা নিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

পরে কারা ফটকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আজকে আমরা কয়েকটি ওকালতনামা জেল সুপারের মাধ্যমে ম্যাডামের কাছে দিয়ে এসেছি। তিনি দেখে-শুনে পরে সই করে দেবেন। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের মামলাসহ অন্যান্য মামলায় ম্যাডাম জামিনে আছেন।’

রায়ের কপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (বুধবার) আমরা দুপুরের পর রায়ের কপি পাব। এটা ঢাকা বিশেষ জজ-৫ আমাদের সরবরাহ করবেন। আমাদের বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় আসতে হবে না। কাল যদি আমরা রায়ের কপি পাই, তাহলে পরদিন হয়তো আপিল ফাইল করতে পারব।’

এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী বলেন, ‘আপনারা গতকাল (সোমবার) কাস্টডি ওয়ারেন্ট ও প্রডাকশন ওয়ারেন্ট পাঠানো হয়েছে এবং শ্যোন অ্যারেস্ট বলে অনেকে নিউজ করেছেন। এর কোনোটাই আসেনি। বন্দি অবস্থায় একমাত্র কোর্ট ছাড়া অন্য কারো এটা দেয়ার ক্ষমতা নাই। এটা শুধু কোর্ট ইস্যু করবে।’

তিনি আরও জানান, আমাদের জানা মতে এবং কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- এরকম কোনো কিছু আসেনি। যা এসেছে তা কোর্টে হাজিরার নির্দেশনা।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূইয়া ও সৈয়দ জয়নাল আবদিন মেজবা।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার পুরানো ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এছাড়া মামলার অপর আসামি বিএনপি প্রধানের ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাদেরকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে তিনি সেখানেই আছেন।

উৎসঃ poriborton

Facebook Comments

লেখক সম্পর্কে

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

%d bloggers like this: