বিশেষ সংবাদ

পেট্রল বোমাবাজ কারা? তথ্য প্রমাণ সহ…

এখন আলোচনার তুঙ্গে পেট্রল বোমাবাজ। সন্দেহ নেই, বাসে ট্রাকে নিরীহ মানুষের উপর যারা পেট্রল বোমা মারছে, তারা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করছে। এ অপরাধকে মানবতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এ নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে ততই নানা প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে। বিশদলীয় জোটের অবরোধ শুরু হয়েছে ৬ জানুয়ারি থেকে। তার আগে ৩ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে অবরোধ ডেকেছিল সরকার। ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বিশদলীয় জোট আহূত ঢাকার সমাবেশ ভন্ডুল করার জন্য সরকার সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়। তার আগে ২৭ ডিসেম্বর (২০১৪) গাজীপুরে আহূত বিশদলীয় জোটের জনসভা পণ্ড করতে আওয়ামী লীগ সেখানে ছাত্রলীগকে দিয়ে এক জনসভা ডাকায়। যদিও ঐ সমাবেশ করার জন্য তারা বেশ আগেই জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করেছিল। তারও আগে ২৩ ডিসেম্বর (২০১৪) বিশদলীয় জোটের সভা করার কথা ছিল গাজীপুরে। কিন্তু ঐ দিন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গী শ্রমিক সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় বিশদলীয় জোট জনসভার তারিখ পরিবর্তন করে।
ছাত্রলীগের ঐ জনসভা আহবানের পর সরকার জেলা প্রশাসককে দিয়ে ঐ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করায়। ফলে বিএনপি আহূত জনসভা পণ্ড হয়ে যায়। আবার ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও, আমরা টেলিভিশনের পর্দায় দেখলাম, দিনভর সেখানে পুলিশের সামনে মিছিল, সমাবেশ, বিক্ষোভ করলো ছাত্রলীগ। এবং কী আশ্চর্য, তাতে সরকারের জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ হলো না।

আসল বিপদটা ছিল অন্য জায়গায়। ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগ সোহরোওয়ার্দী উদ্যানে বেশ কয়েকটি জনসভার ডাক দেয়। তার সবগুলোই মর্মান্তিক রকম ফ্লপ হয়েছিল। এর কোনোটায় প্রধান অতিথি ছিলেন হাসিনা তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়। কোনোটায় বা দলীয় শীর্ষ নেতারা ছিলেন বক্তা। একটায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভায় লোক সমাগম না হওয়ায় জয় সভায় উপস্থিত হননি। আর একটি জনসভায় মন্ত্রী নেতারা উপস্থিত ছিলেন বটে, কিন্তু তাদের বক্তব্য শোনার জন্য কোনো শ্রোতা ছিল না। ফলে তারা সভাস্থল ত্যাগ করেছিলেন। পরে বাংলাদেশ বেতারের শিল্পীদের দিয়ে গান গাইয়ে লোক সমাগমের চেষ্টা করেছিলেন তারা। কিন্তু সে চেষ্টাও হাস্যকর রকম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। সর্বশেষ জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল যেখানে উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা নিজেই। কিন্তু তাতেও দুই-তিন হাজারের বেশি লোক সমাগম হয়নি। যা-ও-বা হয়েছিল তাদেরও বেশিরভাগ ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী। মিউনিসিপ্যালিটির গাড়িতে করে এদের জনসভাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছিল।

কিন্তু তার আগের কয়েক মাস বেগম খালেদা জিয়া যেখানেই জনসভা করতে গেছেন, সেখানেই স্মরণাতীতকালের বৃহত্তম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনা শঙ্কিত ছিলেন ৫ জানুয়ারি সোহরোওয়ার্দীতে তিনি যে জনসভার ডাক দিয়েছিলেন, সেটিও একইভাবে ফ্লপ করে যাবে। আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোট নয়াপল্টনের যে জনসভার ডাক দিয়েছিলেন, তাতে কমপক্ষে ১০ লক্ষ লোক সমাগম হবে। এবং অথর্ব গোয়েন্দা বিভাগ রিপোর্ট দিয়েছিলো যে, এই ১০ লক্ষ লোক রাজপথে বসে পড়বে আর সরকারের পতন ঘটিয়ে ছাড়বে। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই বসে পড়বে আর সঙ্গে সঙ্গে সরকারের পতন ঘটবে, তা কি আদৌ সম্ভব? এই দশ লাখ লোককে রাস্তায় বসে থাকতে হবে বেশ কিছুদিন। তারা খাবে কি? থাকবে কোথায়? প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিবে কীভাবে? তাদের জন্য তো আর শাহবাগীদের মতো সিটি করপোরেশন ভ্রাম্যমান টয়লেট-গোসলখানা ব্যবহার করবে না। প্রতিদিন হাজার হাজার প্যাকেট খাবারও বিতরণ করবে না। এমনকি আসবে না লক্ষ লক্ষ পানির বোতল। গোয়েন্দা বিভাগ সেসব খতিয়ে দেখেনি। এসব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হলো, বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

৩ তারিখ রাতেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে গ্রেফতার করে অনেকটা এরশাদ স্টাইলে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় পুলিশ। সে সময় বিশদলীয় জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ১১টায় তিনি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সরকার তার কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সকল গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়। তিনি তার কার্যালয়েই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরদিন থেকে শুরু হয় নানা নাটক। রাস্তা থেকে ডজনখানেক ইট-বালুর ট্রাক ধরে এনে বেগম খালেদা জিয়াকে তার কার্যালয়ের পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। কার্যালয়ের সামনে নিয়ে আসা হয় প্রিজন ভ্যান, জলকামান, অ্যাম্বুলেন্স। এলাকাটি হয়ে ওঠে রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র।
৫ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া সমাবেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িতে ওঠেন। কিন্তু সরকার তো তাকে বের হতে দেয়ইনি, বরং তার ও তার নেতাকর্মীদের উপর বিষাক্ত ও নিষিদ্ধ বিষ পেপার স্প্রে ছুঁড়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পরের ঘটনাগুলো ঘটে দ্রুত। বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয় ঘিরে একের পর এক নাটক চলতে থাকে। কখনও নিরাপত্তা বেষ্টনী দুই স্তরে নেমে আসে। কখনও ছয় স্তরে উঠে যায়। কখনও তার গেইটের তালা খোলে। কখনও আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর মধ্যে গত ২৪ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ার ইন্তেকাল করেন। শোকের ছায়া নেমে আসে সারাদেশে। ২৭ তারিখ তার লাশ নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। আদরের সন্তানের লাশ দেখে শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। ডাক্তার তাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে শোক জানাতে গেইট পর্যন্ত গিয়ে ফেরত আসেন। সেদিনই দুপুরে যাত্রাবাড়িতে বাস পোড়ানোর কেসে হুকুমের আসামী করে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সরকার। আর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাকে সমবেদনা জানাতে যান প্রধানমন্ত্রী। তা নিয়েও নাটক এবং প্রশ্নের শেষ নেই। তার তিনদিন পর গুলশানস্থ বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সরকার। সঙ্গে টিএনটি টেলিফোন ও মোবাইল সংযোগ, ডিস লাইন, ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে সরকার।

তার পরের ঘটনাই সবচাইতে মারাত্মক। ৫ তারিখে বিশদলীয় জোট ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচী অব্যাহত আছে। কিন্তু বাড়তে থাকে পেট্রল বোমা হামলা। সরকার নামিয়ে দেয় বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ বাহিনী। অপারেশনে নেমে তারা যে ভাষায় কথা বলতে শুরু করলো, তাতে মনে হয়, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব ঐ তিনবাহিনীই গ্রহণ করেছে। তাদের ভাষা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর ভাষা নয়। সে ভাষা অধম তথা ‘হাইব্রিড’ আওয়ামী নেতাদের চেয়েও নিকৃষ্ট। সরকারই যদি প্রকৃত ক্ষমতাধর হতো, তাহলে ঐ তিন বাহিনী প্রধান এ ধরনের উক্তি করতে পারতেন না। এরপর রহস্যজনকভাবে বেড়ে গেছে পেট্রল বোমা হামলার ঘটনা।

সত্য যে এই পেট্রল বোমা হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে পুড়ে যারা হাসপাতালের বেড়ে কাতরাচ্ছেন, তারা নিরীহ মানুষ। কিন্তু কে চালাচ্ছে এই পেট্রল বোমা হামলা সে প্রশ্নে আওয়ামী ঘরানার লোকেরা এবং ক্ষীয়মান বামদলের নেতারা একযোগে বলার চেষ্টা করছেন যে, পেট্রল বোমা হামলার জন্য জামায়াত-শিবির দায়ী, বিএনপি তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।
কিন্তু প্রকৃত ঘটনা বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। ইতিমধ্যে সরকার অবরোধ কর্মসূচী ভ-ুল করে দেওয়ার জন্য বাস-ট্রাক চালকদের এই বলে আশ্বাস দেয় যে, আপনারা গাড়ি চালান, সরকার র্যাব-পুলিশ-বিজিবি দিয়ে পাহারা দিবে। পাহারা দেওয়া শুরু হয়। পেট্রল বোমা হামলাও বাড়তে থাকে।

এ পর্যন্ত যে কয়েকটি বড় ধরনের পেট্রল বোমা হামলা হয়েছে, তার সব ক’টি বাস-ট্রাকের সামনে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আনসার বাহিনী নিয়োজিত ছিল। তার মাঝখানেই পেট্রল বোমাবাজরা বাস-ট্রাকে হামলা চালায়। ডজন ডজন মানুষের পুড়িয়ে মারা ও অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ সরকার শত স্টান্টবাজি সত্ত্বেও মানুষের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। আরও আশ্চর্য ঘটনা এই যে, ঐসব বন্দুকধারী পাহারাদাররা ঘটনাস্থলে কোনো বোমাবাজকেই পাকড়াও করতে পারেনি বা গুলি করে হত্যা করেনি। পরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করেছে।

সম্প্রতি সংঘটিত কয়েকটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা যায়।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে দেখা যায় যে, ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে পুলিশ ১০টি পেট্রল বোমা উদ্ধার করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদের ভাড়া বাড়িতে ৭ ফেব্রুয়ারি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এ বিস্ফোরণের পর পুলিশ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কাউকে ঢুকতে দেয়নি। বাড়িতে আগুন লাগলে দমকল বাহিনী সে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। এই বিস্ফোরণ নিয়ে কেউ কোনো কথাই বলতে চায়নি। আসলে সেটি ছিল সম্ভবত ঐ সংসদ সদস্যের নিয়ন্ত্রণাধীন পেট্রল বোমার কারখানা।
গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের টাইগার পাস এলাকা থেকে বিপুল পেট্রল বোমাসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। সংবাদপত্রের খবরে দেখা যায়, ৫ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে চার ছাত্রলীগ নেতা আহত হয়েছে।
একইদিন রাজশাহীতে রাজশাহী বিশ্বদ্যালয়ের ফেসবুকের অফিসিয়াল পেজ-এ ঘোষণা দিয়ে জানায় যে, বোমা আমরা মেরেছি। দোষ হচ্ছে ছাত্রদল-জামায়াত শিবিরের। এই হচ্ছে পলিটিক্স। ৫ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামে পেট্রল বোমাসহ দুই যুবলীগ নেতাকে আটক করা হয়।

https://goo.gl/2JA9y7
৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর শীর্ষ সংবাদে বলা হয় ‘জামিনের জন্য আওয়ামী লীগের প্রত্যায়নপত্র/ বোমাবাজরা সৎ ও মেধাবী’। তাতে বলা হয়, নাশকতার দায়ে কমপক্ষে ৫০০ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। তাদের মুক্তির জন্য সৎ ও মেধাবী সার্টিফিকেট দিয়েছেন আওয়ামী লীগের এমপিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা। গ্রেফতারকৃতরা যদি আওয়ামী লীগের না-ই হবেন, তবে তাদের সচ্চরিত্রের সার্টিফিকেট দেওয়াও প্রয়োজন আওয়ামী নেতাদের কেনো হবে? এদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম মহাসচিব হানিফ বলেছেন, বিএনপি যদি হরতাল-অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে ২৪ ঘণ্টা মধ্যে তারা পেট্রল বোমাবাজির অবসান ঘটাতে পারবে। তবে কি পেট্রল বোমাবাজরা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন?
এদিকে আবার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, পেট্রল বোমা হামলার ধরন দেখে মনে হয় ‘এটা যেন মিলিটারী অপারেশন। যারা করেছে তারা দক্ষতার সঙ্গে করেছে। তার মনে হয়েছে তারা আগে থেকেই এলাকা রেকি করেছে। আর পেট্রল বোমায় যে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো সাধারণ দাহ্য পদার্থ নয়। বিশেষ ধরনের পদার্থ যা বিশেষ ধরনের লোকদের কাছে থাকাই স্বাভাবিক।’
অর্থাৎ পেট্রল বোমা নিক্ষেপের প্রতিটি ঘটনায় শুধু পেট্রল বোমাই নয় সুকৌশলে গাড়ির ভেতর থেকে দাহ্য পদার্থ/বিস্ফোরক কিংবা গান পাউডারও ব্যবহার করা হয়েছে। বিহঙ্গ পরিবহনের নিজেদের গাড়িতে আগুন লাগানোর ষড়যন্ত্রও এই সম্ভাবনাটাকে শক্তিশালী করে।
এই হলো পেট্রল বোমা কাহিনী। আমি এদেশের নাগরিক, সুশীল সমাজ, রাজনীতিক সকলের কাছে একটি চিত্র তুলে ধরলাম মাত্র। বিবেচনার ভার দেশবাসীর।
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বুধবার, https://goo.gl/XWj9pE
এছাড়াও যা ঘটেছিল:

পেট্রল বোমাসহ আ’লীগ নেতার ছেলে আটক
https://goo.gl/9xKv45

বুধবার বিকেলে নরসিংদী জেলার মাধবদি পৌরসভার আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ নেতার ছেলেকে আটক করেছে গোয়েন্দা শাখার পুলিশ এবং তার কাছ থেকে ৫টি পেট্রল বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিকে সনাক্ত করা হয়েছে। নাম মো: মাসুম (২২) নুরালাপুর ইউনিউন আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেহার আলীর ছেলে। স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মাসুম ছিলেন একজন বখাটে। পুলিশ বলেন, এই সূত্রের জেরে নরসিংদী সদরে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পেট্রোল বোমাসহ আ’লীগ নেতার গাড়ী জব্দ
https://goo.gl/5go1aQ

বাসে পেট্রোল বোমা হামলা নিয়ে আরও যেসব রহস্য
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
গত মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা আইকন পরিবহনের বাসে পেট্রোল বোমা হামলা এবং তাতে ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ও ১৫ জন মারাত্মক দগ্ধাহত হয়েছে। এই অমানবিক ঘটনা কে বা করা ঘটিয়েছে তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। যাত্রাবাড়ীতে ইতোপূর্বে বাসে বোমা হামলার পর বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা আর এই ঘটনার মধ্যে সাযুজ্য রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।
যে বাস কক্সবাজার রুটে চলার অনুমোদনই নেই সেই বাস টানা অবরোধ ও সাথে হরতালের মধ্যে পুলিশ বা বিজিবির পাহারা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই রাতে কক্সবাজার ছেড়ে আসলো এবং তা হামলার শিকার হলো। ৭ জনের জীবনহানি ঘটলো। জামায়াতের সাবেক এমপি ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামী আর বেগম খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামী করে মামলা হলো। পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, যাত্রাবাড়ীর মিশন ব্যর্থ হওয়ার পর কি চৌদ্দগ্রামে তা সফল করা হলো? বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের প্লট তৈরিই কি জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হলো না?
২০১৩ সালের শেষদিকে একতরফা নির্বাচন বাতিলের দাবিতে চলমান হরতাল অবরোধের একপর্যায়ে ঢাকার আজিমপুরে একটি যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাসে পেট্রোল বোমা হামলা হয় যাতে বেশ কয়েকজন নিরীহ যাত্রী মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ ঐ বাসটি ছিল নরসিংদী রুটের যা যাত্রাবাড়ী পর্যন্তই থাকার কথা ছিল। প্রশ্ন এসেছিল তখন যে, নরসিংদী রুটের সরকারি গাড়ি আজিমপুরে কেন গেল? তাহলে কি বিরোধী দলের আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে এটা করা হয়েছিল?
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মালিকানাধীন বিহঙ্গ পরিবহনে শাহবাগসহ বেশ কিছু স্থানে তখন বাসে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়। আজিমপুরে অগ্নিদগ্ধ বাসও বিহঙ্গ কোম্পানির ছিল। তখন বিহঙ্গ বাস ও অগ্নিসংযোগ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে।
চৌদ্দগ্রামের ঘটনাও তেমনি, চৌদ্দগ্রামের ঐ এলাকা রেলমন্ত্রীর ঘাঁটি এলাকা। যেখানে সারাক্ষণ রোড পাহারা দেয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগাররা। এর মধ্যে হামলা করলো কারা। বিএনপি-জামায়াতের লোকদের তো সেখানে রাস্তায় হাঁটাচলা বা স্বাভাবিক কাজও করার সুযোগ নেই।

সহযোগী একটি দৈনিকে গতকাল বুধবার প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লায় পেট্রোল বোমা হামলার শিকার ‘আইকন পরিবহন’ নামে বাসগুলোর কক্সবাজার রুটে চলাচলের অনুমোদন নেই। এছাড়াও কক্সবাজারে পর্যটক পরিবহনে পুলিশ-বিজিবির নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরেই চলাচল করছিল এ পরিবহন। ওই পরিবহনের সাথে কক্সবাজারের প্রশাসন, নাগরিক সমাজ এবং কক্সবাজার এলাকার পরিবহন সেক্টর একেবারেই অপরিচিত। কক্সবাজারে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো কাউন্টার নেই। নেই কোনো সুনির্দিষ্ট বুকিংম্যানও। কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমা হামলার শিকার হওয়ার পর এই পরিবহন নিয়ে আজ কক্সবাজারের সর্বত্র দিনভর আলোচনা চলে। ঘটনা ঘটার আগে কক্সবাজারের কেউ এই পরিবহনের নামও শুনেনি। এছাড়া পর্যটক পরিবহনে প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে আইকন পরিবহন কেন চলাচল করছিল? তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কক্সবাজার অফিসের সহকারী পরিচালক এবং আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সদস্য সচিব পারকন চৌধুরী জানান, ‘দেশে আইকন পরিবহন নামে যে একটি বাস আছে তাও কক্সবাজার রোডে চলাচল করছে তা আমি আজই (মঙ্গলবার) শুনলাম। তিনি জানান, লাইসেন্স ও পারমিটের শর্ত মতে, যেকোনো পরিবহনের স্টার্টিং পয়েন্ট এবং লাস্ট স্টপেজ তথা সর্বশেষ গন্তব্য এলাকার রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি তথা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি) অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু আইকন পরিবহনের বাসগুলো আরটিসির অনুমোদন ছাড়াই কক্সবাজারে চলাচল করছে।
এছাড়াও তথ্য মতে, দেশের চলমান টানা রাজনৈতিক অসন্তোষের মধ্যে দুর্বৃত্তদের হামলা থেকে মুক্ত রাখতে কক্সবাজার-ঢাকা রোডে পর্যটক পরিবহনে প্রশাসন তথা বিজিবি-পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রিনলাইন, সোহাগ, সৌদিয়া, এস আলম, ইউনিক, টিআর ট্র্যাভেলস, তিশা, হানিফ ইত্যাদি পরিবহনকে জানিয়ে দেয়া হয়। নির্দেশিত মতে, সামনে-পেছনে পুলিশ-বিজিবি প্রহরায় রাত সাড়ে ৮টায় কক্সবাজার বাস টার্মিনাল থেকে বিলাসবহুল কিছু সংখ্যক কোচ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং ঢাকা থেকেও একইভাবে কক্সবাজার আসে বাসগুলো। এ কারণে কক্সবাজার যাতায়াতকারী কোচগুলোতে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আইকন পরিবহনের কোচটি কেন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে চলাচল করলো না তা এখন বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে।

পরিচিত সব পরিবহনের কক্সবাজার শহরে একাধিক বুকিং কাউন্টার থাকলেও আইকন পরিবহনের একটি কাউন্টারও কক্সবাজার শহরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মোবাইলে সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিজকে আইকন কোচ পরিবহনের কক্সবাজারের ম্যানেজার দাবি করে বলেন, আইকন পরিবহনের কোচটি দুই মাস ধরে কক্সবাজারে চলাচল করছে এবং বুকিং কাউন্টার হোটেল লং বিচের পাশে বলে দাবি করেন। প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন নেয়া হলো না জানতে চাওয়া হলে তিনি জবাব এডিয়ে বলেন, কোচটি গত মঙ্গলবার রাতে মেরামতের জন্য কিছুটা বিলম্বে ছাড়া হয়েছিল।

তথ্য মতে, গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে পর্যটকসহ যাত্রীদের নিয়ে কক্সবাজার ত্যাগ করে এবং কুমিল্লায় পেট্রোল বোমা হামলার শিকার হয়। নিহত হন সাত যাত্রী। তাদের মধ্যে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার দু’জন রয়েছেন।
কক্সবাজারে অবস্থানরত কয়েকজন বাস কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, প্রশাসনের গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন আইকন পরিবহন নিলো না, কক্সবাজার থেকে দীর্ঘপথে যাতায়াতে কেনই বা তারা এত ঝুঁকি নিলো এসব তদন্ত করলে রহস্য বের হতে পারে।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, প্রাণোধিক প্রিয় সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর অকালমৃত্যুর পরও যখন আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া ঠিক তখনই পরিকল্পিতভাবে তিনিসহ বিএনপির ২৮ জন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ীতে বাসে বোমা হামলার হুকুমের আসামী করা হয়। যাত্রাবাড়ীর ঐ ঘটনাটি পুলিশের সামনেই ঘটে বলে পত্রিকায় খবর আসে। দুইজনকে হাতেনাতে ধরেও রহস্যজনক কারণে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে খবরে বলা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তার আগে বলা হয়েছিল ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে।

তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে ৩২ জনকেই হত্যা করা। কিন্তু আল্লাহর ফায়সালা তারা কেউই মরেনি, তবে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। যেহেতু সেখানে কেউ মরেনি তাই খুনের হুকুমের মামলা দুর্বল হয়ে যাবে তাই আরেকটি ঘটনার অবতারণা হতে পারে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে যা চৌদ্দগ্রামে ঘটেছে। কারণ সেখানে যে মামলা হয়েছে তাতে খালেদা জিয়া হুকুমের আসামী, আর সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে করা হয়েছে প্রধান আসামী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করার মন্ত্রী ও আওয়ামী নেতাদের দাবির সাথে এই মামলার মিল আছে। তাই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে যে রুটে আইকন গাড়ি চলার অনুমোদনই নেই সেই রুটে প্রশাসনের পাহারা ছাড়া কিভাবে রাতে গাড়ি ছাড়লো।
বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে বারবার আগুন বোমা কেন?
হরতাল-অবরোধে বারবার কেন বিহঙ্গ পরিবহনের বাসেই আগুন লাগছে, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে- এ প্রশ্ন এখন অনেকেরই। ইতোমধ্যে এই প্রশ্নকে ঘিরে নানা রহস্য জন্ম নিলেও এ নিয়ে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো মাথাব্যাথা না থাকায় ঘটনাগুলো ‘পরিকল্পিত’ বলেই অনেকেরই ধারণা। বিরোধী দলকে ফাঁসানোর জন্যই এমন নির্মম ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। আর বাসগুলোতে আগুন বা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের পর পরই কতিপয় মিডিয়ায় ফলাও করে সেই ঘটনার প্রচার ও প্রকাশ সেই সন্দেহকে আরও জোড়ালো করেছে।

গত ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে শিশু পার্কের বিপরীত পাশের রাস্তায় বিহঙ্গ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়। এছাড়া প্রাণ বাঁচাতে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হন অপর যাত্রীরা। আহতদের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ ১৮ জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়। রমনা জোনের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার সে সময় জানান, সন্ধ্যায় শিশু পার্কের বিপরীতে গুলিস্তান থেকে পল্লবীগামী বিহঙ্গ পরিবহনের ওই যাত্রীবাহী বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তেই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে কমপক্ষে ১৮ জন দগ্ধ হয়। রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শিবলী নোমান এটিকে পরিকল্পিত ঘটনা বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ‘পরিকল্পিত’ ঘটনার পরিকল্পনাকারী কারা-তা উদ্ধারে পুলিশের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।
এর দু’দিন পর ১ ডিসেম্বর দুপুরে পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় সদরঘাট থেকে মিরপুরগামী বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়া হয়। ওই বাসের চালক চঞ্চল জানান, বাসে যাত্রী তোলার সময় এক যুবক জানালা দিয়ে পেট্রোল ঢেলে গাড়িতে আগুন দেয়। এতে গাড়ির দুটো আসন পুড়ে যায়। আশপাশের লোকজন এসেই আগুন নিভেয়ে ফেলে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে হৃদয় হোসেন নামে একজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হৃদয়ের কোনো জবানবন্দি নেয়া হয়নি। ঘটনাটি ধামাচাপাই পড়ে গেছে।

এ ঘটনার পরদিন ২ ডিসেম্বর রাতে পল্লবীর ঈদগা মাঠ-সংলগ্ন সড়কে বিহঙ্গ পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।
কয়েকদিন আগে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবির। বেসরকারি টেলিভিশনের এক ‘টকশোতে’ নুরুল কবির বলেন, শাহবাগে বাসে পেট্রোল বোমা মারা হয়েছে সেটা ছিল বিহঙ্গ পরিবহনের। এর আগে আরেকটি বাস পোড়ানো হয়েছে সেটাও বিহঙ্গ পরিবহনের, পরদিন আরো একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারা হলো সেটিও বিহঙ্গ পরিবহনের। তিনি বলেন, বারবার কেন শুধু বিহঙ্গ পরিবহনের বাসেই আগুন লাগছে সেটিও সরকার প্রমাণ করার আগে এই দায় এড়াতে পারে না যেখানে বিহঙ্গ পরিবহনের মালিক ও চেয়ারম্যান হচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি। অন্তত বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে আগুনের পরপর তিনটি ঘটনার বিষয়ে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপাতে সরকারের হাত নেই তা আমি বিশ্বাস করতে পারি না। নুরুল কবির এ ব্যাপারে সরকারের জবাব চান।
তিনি আরো বলেন, এর আগে আমি যে প্রশ্ন করেছিলাম বিআরটিসির নরসিংদীর বাস আজিমপুর গিয়ে কীভাবে পুড়লো এরও কোনো জবাব সরকারের কেউ দিতে পারেনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিহঙ্গ পরিবহন কোম্পানির চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পঙ্কজ দেব নাথ। সারাজীবন রাজনীতি করলেও জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাতারাতি তিনি পরিবহন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। বিহঙ্গ পরিবহন কোম্পানি করে ৩০/৩৫টি বাস ঢাকার রাজপথে চলতে থাকে। তবে পরিবহন মালিকরা জানান, বিহঙ্গ পরিবহনের বেশিরভাগ বাসই অতি পুরাতন। কয়েকটি বাসের ফিটনেসও নেই। আবার কয়েকটির ফিটনেস নেয়া হয়েছে তদবির করে। মালিক শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লক্কর-ঝক্কর মার্কা হলেও বিহঙ্গ পরিবহনের বাস চলতো বীরদর্পে। ‘দাদার গাড়ি’ বলে ট্রাফিক পুলিশও বিহঙ্গের বাসের দিকে তাকাতেও সাহস করতো না। এই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোকন এক সময় বাসেরই হেলপার ছিলেন। দাদার সাথে যোগ দিয়ে তিনিও রাতারাতি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বনে গেছে। সেই বিহঙ্গের বাসে বারবার আগুন ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় বিশিষ্ট সাংবাদিক নুরুল কবিরের মতো অনেকেরই মনে প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মালিক জানান, কয়েক মাস আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ির বহরকে আটকিয়ে দেয়ার জন্য এই বিহঙ্গ পরিবহনের বাসকেই ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই মালিকের মতে, বিরোধী দলকে ফাঁসানোর জন্য একই পরিবহনের বাসকে ব্যবহার করা হতেই পারে। এ কাজে কতিপয় মিডিয়াও দায়ী বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, ঘটনাগুলো ঘটার সাথে সাথে কতিপয় মিডিয়া ফলাও করে ঘটনাগুলো প্রকাশ করে। যেখানে কোনো প্রাথমিক তদন্তের আগেই বিরোধী দলকে একতরফাভাবে ওইসব ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু কার গাড়ি, কে ঘটালো, কোথায়-কখন ঘটলো তার কোনো বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে না। এমনকি ঘটনাগুলো ঘটার পর রহস্যজনক কারণে এর তদন্তও এগুচ্ছে না।
https://goo.gl/25hLMX

রহস্যের পেছনের একটি কারণ-

পঙ্কজ দেবনাথ নিজ পরিবহনে আগুন দিয়ে মনোনয়ন বাগিয়েছিলেন
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি
২০১৪ সালে শাহবাগে পঙ্কজ দেবনাথ নিজ পরিবহনে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে ১১ জনকে হত্যা করে মনোনয়ন বাগিয়েছিলেন। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ থেকে দুবার নির্বাচিত এমপি, মেহেন্দিগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি, বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম। মেহেন্দিগঞ্জের চানপুর ইউনিয়নে পঙ্কজ দেবনাথের ভোট জালিয়াতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে নির্বাচন বর্জন করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। তারপর বেলা ২টায় জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মইদুল ইসলাম বলেন, এমপি পঙ্কজ দেবনাথের দুর্নীতির কারণে মানুষ আজ বীতশ্রদ্ধ।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে যখন আন্দোলন চলছিল, তখন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ তার নিজস্ব বিহঙ্গ পরিবহনে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগান। এতে ১১ জন যাত্রী মারা যায়। এ ঘটনার পর তিনি দলেরনেত্রীর সহানুভূতি অর্জনে সক্ষম হন এবং মনোনয়ন লাভ করেন। তিনি জানান, গতকালের (২৩শে মে) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর একের পর এক হামলা চালায় এমপির লোকজন।
পুলিশও যে এতে সমান তালে এগিয়ে ছিল তাও বিভিন্নভাবে প্রমাণিত হয়েছে-
https://goo.gl/xy8mVR
সরকার টিকায়া রাখছে পুলিশ, বাসে আগুন দিয়েছে পুলিশ ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া

গৌরীপুরে পেট্রোল বোমার হামলার নেপথ্যে আ.লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল!
https://goo.gl/Dnzgmr
সর্বশেষ খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর আওয়ামী পেট্রল বোমা হামলার শিকার হয়
ফেনীতে আবারও খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা, দুটি বাসে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ
সত্য কখনো চাপা থাকেনা, আবার মিথ্যাও ঢেকে রাখা যায় না

বি: দ্র : ই্উটিউব থেকে প্রকাশিত সকল ভিডিওর দায় সম্পুর্ন ই্উটিউব চ্যানেল এর ।এর সাথে আমরা কোন ভাবে সংশ্লিষ্ট নয় এবং আমাদের পেইজ কোন প্রকার দায় নিবেনা। ভিডিওটির উপর কারও আপত্তি থাকলে তা অপসারন করা হবে। প্রতিদিন ঘটে যাওয়া নানা রকম ঘটনা আপনাদের মাঝে তুলে ধরা এবং সামাজিক সচেতনতা আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ।

news collected from https://www.facebook.com/notes/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE-basherkella/%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE/1700216116733012/

Facebook Comments

লেখক সম্পর্কে

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

%d bloggers like this: