জাতীয়

সংবিধান কোন ধর্ম গ্রন্থ নয় যে পরিবর্তন করা যাবে না

সংবিধান কোন রূপান্তরিত শিলা বা পারলিক শিলার পাহাড়ার নয় যে এটাকে সরানো যাবে না। কিংবা এটা কোনও ধর্মগ্রন্থ নয়, যে তা পরিবর্তন করা যাবে না। সংবিধান দেশ ও জনগণের স্বার্থে পরিবর্তন করতে হয়। অতিতেও করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

দলটির নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী সংবিধান নিয়ে যাই-ই বলুন না কেন সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনকালীন সময়ে একটি সহায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নেই। এজনই সংবিধানে একটা পরিবর্তন আনা দরকার। বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সংসদে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। আর এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।

সংবিধানে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কোন বিধান নেই ৩১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া এসব কথা বলেন বিএনপির নেতারা।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থে সংবিধান করা হয়। তাহলে সেই সংবিধান দেশের মানুষের স্বার্থে পরিবর্তন করা যাবে না কেন? দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সহায়ক সরকারের ঘটন করা যাবে। আলোচনার কোন বিকল্প নেই।

নির্বাচন কালীন সরকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন , সেটাও সংবিধানে নেই উল্লেখ করে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, সংবিধানের কোথায় লেখা আছে নির্বাচনকালীন সরকার হবে? সেখানে ছোট্ট একটা মন্ত্রী সভা হবে। রুটিন কাজগুলো তারা করবেন। এগুলো সংবিধানের কোথায় আছে?

তিনি বলেন, এটাতো স্বীকৃত নির্বাচনকালীন সরকার একটা অন্য রকম সরকার থাকবে। (আওয়ামী লীগের) বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে। সুতারাং যেটা সংবিধানে নেই সেটা যদি বাহিরে আলোচনা করে সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য ঐক্য মতে আমরা আসতে পারি, তাহলে দেশে তো আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে। তিনি বলেন, মানুষের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য মানুষ নই।

স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহাবুবুর রহমান বলেন, আমরা তো বলে আসছি সহায়ক সরকারের কথা। প্রধানমন্ত্রী বলছে সহায়ক সরকারের কোন বিধান নেই সংবিধানে কিন্তু এটা তো আমরা আলোচনা করে সমাধান করতে পারি দেশের স্বার্থে। তার আগেও বিধান ছিল না কিন্তু সেটা তো হয়েছিল। সবাই মিলেই তো সংবিধান। জনগণের জন্য সংবিধান তাহলে জনগণের স্বার্থে এটা পরিবর্তন করা যাবে। এবং পরিবর্ত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী কাছে প্রশ্ন রেখে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংবিধান কি কোনও রূপান্তরিত শিলা বা পাললিক শিলার পাহাড় যে এটাকে নড়ানো যাবে না? তাহলে ওনারা (আওয়ামী লীগ) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করে সেটা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল কেন?

তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তন করা যায় না এটা কে বলেছে? তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কত বড় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী যে সংবিধান সংশোধন করা যায় না। এগুলো হচ্ছে সম্পূর্ণ অমূলক কথা। উনি (প্রধানমন্ত্রী) সংবিধান বার বার সংশোধন করিয়েছিলেন নিজের স্বার্থে। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল তারা বাকশাল করে সংবিধানের সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক চরিত্র নষ্ট করিয়ে দিয়েছিল।

Facebook Comments

লেখক সম্পর্কে

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

%d bloggers like this: