গাজীপুর সিটিতে ভোট কারচুপির আশঙ্কা বিএনপির, এজন্য যা করতে যাচ্ছে বিএনপি!

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি বলেছেন, ‘ভোটের দিন যত ঝড়-বৃষ্টি ও বাধা থাকুক

না কেন, আপনারা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসবেন। নিজের জীবন দিয়ে হলেও ভোট কারচুপি ঠেকাবো।’ আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে টঙ্গীতে বিএনপি’র প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে

এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যদি ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তবে সম্মানজনক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো।’ হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছে, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে দেখা করো, নয় তো এলাকা ছেড়ে পালাও। আমাদের নেতাকর্মীদের জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই।’ নির্বাচন

প্রসঙ্গে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনার যে নিয়ম- কানুন কমিশন থেকে দেওয়া হয়েছে, সরকার সেটি সস্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করুক, এটাই আমরা দেখতে চাই।’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা ও ধানের শীষের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন>> বরিশালে সাদিককে নিয়ে ‘দুর্ভাবনায়’ বিএনপি বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে নিয়ে দুর্ভাবনায় বিএনপি

নেতাকর্মীরা। প্রয়াত মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন হিরণের মতোই সাদিককে শক্তিশালী প্রার্থী বলে মনে করছেন তারা। ৭৫ পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে বরিশালে বিএনপির ভালো করেছে। তবে ২০০৮

সালের মেয়র নির্বাচনে বিএনপির মধ্যে বিভক্তি, দলের একাধিক প্রার্থী আর এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সুযোগে জিতে যান আওয়ামী লীগের হীরন। আর হীরন মেয়র হওয়ার পর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড

এবং সাংগঠনিক কাজ বাড়ানোর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা অনেক বাড়ে, সেটি ২০১৩ সালের ভোটেই বুঝা যায়। এই নির্বাচনে হীরন হারলেও তিনি আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি ভোট পান। হীরনের

মৃত্যুর পর বরিশাল আওয়ামী লীগকে গোছানোর কাজটি সবচেয়ে বেশি করেছেন সাদিক। তিনি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়। তার বাবা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং শেখ হাসিনা সম্পর্কে

মামাত-ফুপাত ভাই বোন। সেই হিসেবেও সাদিকের একটি গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব আছে বরিশালে। আবার বিএনপির মেয়র আহসান হাবিব কামালের মেয়াদে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্তুষ্ট নয় খোদ বিএনপি।

নগরবাসীর মধ্যেও অসন্তোষ স্পষ্ট। এই সুযোগটাও নিতে চাইছেন সাদিক। তবে বিএনপি তাকে এবার প্রার্থী না করে সাবেক মেয়র এবং সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারকে প্রার্থী করতে চাইছে বলে

প্রচার আছে। তিনি যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, জিতেছেন প্রতিটিতেই। তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নাতীত। তিনি প্রার্থী হলে জমজমাট লড়াই হবে, এটা নিশ্চিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে

মহানগর বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সাদিককে নিয়ে সত্যি আমাদের মধ্যে টেনশন রয়েছে। আমরা তাকে নিয়ে চিন্তিত। নতুন প্রার্থী হয়েও তার লোকজন ভালোই রয়েছে। কিন্তু

এখানে সরোয়ার একটি ফ্যাক্ট। নির্বাচনে হার-জিত হবে অল্প ভোটের ব্যবধানে। দুইজনেই বর্তমানে জনপ্রিয়। তবে দল ক্ষমতায় থাকায় জোয়ারটা এখন সাদিকের দিকেই।’ বরিশাল জেলা বিএনপির এক নেতা

বলেন, ‘নিরপেক্ষ কথা বলতে গেলে সাদিক বিএনপির জন্য প্রেশার। কিন্তু বরিশালে আওয়ামী লীগের জয়ী হওয়াটাও মুখের কথা নয়। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয় তাহলে অল্প কিছুর ব্যবধানে যেকোনো এক দল জয়ী

হবে। তবে মজিবর রহমান সরোয়ার যদি প্রার্থী হন আর যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে বিএনপি নিঃসন্দেহে জয়ী হবে।’ বরিশাল বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা নুরুল আলম ফরিদ বলেন, ‘বরিশাল সিটি নির্বাচনে

মজিবর রহমান সরোয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জয় ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে সুষ্ঠু। আর যদি তা না হয় তাহলে আওয়ামী লীগ তো এমনিতেই জয় লাভ করবে।’ আওয়ামী

লীগ নেতা ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু বলেন, ‘বরিশালের জন্য তরুণ নেতৃত্ব দরকার। আর তরুণ নেতৃত্ব ছাড়া বরিশালের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর বিএনপির মেয়র থাকলে কী হয়, সেটি নগরবাসী গত পাঁচ বছর দেখেছে। আগের পাঁচ বছর আওয়ামী লীগের মেয়রের কাজও মূল্যায়ন করবে জনগণ।

বেতন ৪২ হাজার হলেও তার বাড়ির দাম চার কোটি টাকা!

পুলিশের চাকরি থেকে মাসিক আয় (বেতন) ৪২ হাজার ৬৬০ টাকা। সেই অনুযায়ী তিনি সরকারকে মাসিক করও পরিশোধ করেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এই

পুলিশ উপপরিদর্শকের আলিশান বাড়ির সন্ধান পেয়ে অবাক হয়েছে। তাঁর রয়েছে একটি ব্র্যান্ড নিউ গাড়িও। সংস্থার প্রতিবেদনে এ পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ির নির্মাণ ব্যয় হিসাব করা হয়েছে প্রায় চার কোটি

টাকা। সরকারের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাটির এই বাড়ি নির্মাণ ও তথ্য গোপনের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে সরকারি সংস্থাটির প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের সূত্র ধরে রাজধানীর অদূরে নারায়ণগঞ্জ

জেলার ফতুল্লা এলাকার পশ্চিম তল্লার গ্রিন রোডের বাড়িটিতে গিয়ে নানা তথ্য পাওয়া যায়। এলাকার মানুষের কাছে এটি ‘ডিবির বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত। মালিকের নাম এসআই মিজানুর রহমান। তিনি

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত বলে জানা যায়। তবে নিজেকে তিনি ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন বলে বাড়িটি ডিবি পুলিশের বাড়ি বলেই সবাই জানে। খবর কালের কণ্ঠ’র। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,

‘ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার গ্রিন রোডের বিলাসবহুল বাড়িটির মালিক বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। সরকারের কাছে তাঁর দাখিলকৃত কাগজপত্রে

তিনি ৪২ হাজার ৬৬০ টাকা বেতনপ্রাপ্ত হন। এর বাইরে অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই বলে জানান। কিন্তু সরেজমিন তদন্তে তাঁর ভূসম্পত্তি ও বহুতল ভবনের মালিক হওয়া এবং ভবন থেকে প্রাপ্ত অর্থেরও

সন্ধান পাওয়া যায়, যা আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পিডাব্লিউডির (গণপূর্ত অধিদপ্তর) রেট অনুযায়ী ভবনটির নির্মাণে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা। এ কর্মকর্তা টয়োটা ব্র্যান্ডের একটি নতুন

মাইক্রোবাসও ব্যবহার করেন।’ সংস্থাটি পৃথকভাবে ইট, রড, সিমেন্ট, টাইলস, স্টিল, গেট, পাইপ, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীর দরদাম উল্লেখ করে বাড়ির মোট ব্যয় নির্ণয় করেছে।

গতকাল শনিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে আশপাশের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে এক লহমায় সবাই ‘ডিবির বাড়ি’ দেখিয়ে দেয়। বাড়ির নিচতলায় গিয়ে ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়,

মিজানুর রহমান পরিবার নিয়ে তৃতীয় তলায় থাকেন। ওই সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। তৃতীয় তলায় খোঁজ নিলে গৃহকর্মী জোসনা বেগম বলেন, ‘মিজান স্যার ও ম্যাডাম বাইরে গেছেন।’ বিশাল আকৃতির এ

বাড়িতে প্রতি ফ্লোর চার ইউনিটের; মোট ফ্ল্যাট ২৪টি। প্রতিটি ফ্ল্যাটের ভাড়া গড়ে ১২ হাজার টাকা। সেই অনুযায়ী তিনি মাসে প্রায় দুই লাখ ৮৮ হাজার টাকা ভাড়া পান। নিচতলায় দেখা যায়, ‘মায়া ফার্মেসি

ও সামিয়া ফ্যাশন’ নামের দুটি বাণিজ্যিক স্থাপনাও রয়েছে। ভবনের পাশের একটি দোকানের চা বিক্রেতা লিটন মিয়া বলেন, ‘ডিবি অফিসার মিজানুর রহমান তিন-চার বছর আগে ভবনটি বানিয়েছেন।’

জানতে চাইলে এসআই মিজানুর রহমান গতকাল বলেন, ‘আমার বাড়ির সব তথ্য আয়কর রিটার্নে দেখানো আছে। কোনো কিছু গোপন করা হয়নি।’ কথা শেষ না করেই তিনি ফোন কেটে দেন।

ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সম্মানজনক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি বলেছেন, ‘ভোটের দিন যত ঝড়-বৃষ্টি ও বাধা থাকুক না কেন, আপনারা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসবেন।

নিজের জীবন দিয়ে হলেও ভোট কারচুপি ঠেকাবো।’ রবিবার (২৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে টঙ্গীতে বিএনপি’র প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যদি ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তবে সম্মানজনক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো।’

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আপনার সংশয় কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছে, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে দেখা করো, নয় তো এলাকা ছেড়ে পালাও।

আমাদের নেতাকর্মীদের জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনার যে নিয়ম- কানুন কমিশন থেকে দেওয়া হয়েছে, সরকার সেটি সস্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করুক, এটাই আমরা দেখতে চাই।’

আরো পড়ুন>> মুসলিম নির্যাতনের জবাবদিহিতা করতে মিয়ানমারকে আল্টিমেটাম দিল আন্তর্জাতিক আদালত হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে সে ব্যাপারে জবাবদিহিতা করার

জন্য মিয়ানমার সরকারকে সময়সীমা বেধে দিয়েছে। আইসিসি’র কৌসূলী ফাতাউ বেনসৌদা ওই বিবৃতিতে আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত শেষ সময়সীমা বেধে দিয়েছেন মিয়ানমারকে। আইসিসি’র এই কৌসূলী প্রায়

তিন মাস আগে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা কেন বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

তাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের জুলুম-নির্যাতন ও হামলার বিষয়টি তদন্তের জন্য আইসিসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। আইসিসি মিয়ানমার সরকারকে যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তা

রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের সুযোগ এনে দেবে বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও আইসিসি’র কোনো কোনো সূত্র বলছে, মিয়ানমার সরকার আইসিসি’র সদস্য না হওয়ার কারণে

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের গণহত্যার বিষয়ে তদন্ত করা সম্ভব হবে না। কিন্তু আইসিসি’র কৌসূলী বলছেন, এ বিষয়ে তদন্তের ক্ষমতা ও অধিকার সংস্থাটির রয়েছে এবং এ

কারণে মিয়ানমার সরকারকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। অবশ্য আইসিসি মনে করে মিয়ানমার এ সংস্থার সদস্য না হলেও বাংলাদেশ এর সদস্য। আর সে কারণে বাংলাদেশের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম

নির্যাতনের বিষয়টি তদন্ত করা যাবে। হেগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী আগ্রাসন, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করা এ সংস্থার দায়িত্ব। এ কারণে

আইসিসি রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান এবং নৃশংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত চালাবে বলে সবার প্রত্যাশা। ভূ-রাজনৈতিক গবেষক অ্যান্থনি কার্তালুসি মনে করেন,

আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বলতে যা বোঝায় তা মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইনে সংঘটিত হয়েছে বা এখনো হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের পুরোপুরি নির্মূল করাকেই প্রধান

লক্ষ্য বানিয়েছে মিয়ানমারের খুনিরা। হেগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিসি অনেক দেরিতে হলেও মিয়ানমার সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে কিন্তু এ সংস্থাটি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ডের

সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীরা যাতে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আন্তর্জাতিক সমাজ আশা করছে। উৎস, পার্সটুডে

বোধহয় আ.লীগ প্রার্থীর জন্য মাঠে নেমেছে পুলিশ: দুদু

আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার পরিবেশ নেই এমন অভিযোগ করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘গাজীপুরে নির্বাচনী পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারদলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য টার্গেট করে মাঠে নেমেছে।’

রবিবার (২৪ জুন) সকালে গাজীপুরের ৫৩ নং ওয়ার্ডে বিএনপি ও ২০ দল মনোনিত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দীন সরকারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিয়ে এক পথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শামসুজ্জামান দুদু বলেন,

‘বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বলতে যা বোঝায় গাজীপুরে তার ছিটেফোঁটাও নেই। সারা দেশের মতো এখানেও নির্বাচনী পরিবেশ ধ্বংস করে দিয়েছে তারা।’

সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে অভিযোগ করে কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ২০ দল মনোনিত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দীন সরকারের পক্ষে যারা কাজ করছেন,

এজেন্ট হবেন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং গ্রেফতার করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার নির্বাচন কমিশনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ও প্রশাসনে অভিযোগ করলে তারা কোন ব্যবস্থা না করে নির্বিকার ভূমিকা পালন করছেন।

অথচ প্রধানমন্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই বলে যাচ্ছেন তিনি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান। আসলে আওয়ামী লীগের কাজ ও কর্মের মধ্যে বাস্তবতার কোন মিল নেই।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সুষ্ঠু না হলে গাজীপুরের এই নির্বাচন সরকারের জন্য যেমন বিপদ ঢেকে আনতে পারে,

গণতান্ত্রিক শান্তিপ্রিয় মানুষদের জন্যও এটা একটি অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কারণ অধিকার হারা মানুষগুলো সব সময় অধিকার হারা থাকতে চায় না। তাই মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।’

৫৩ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাঈনুল ইসলাম, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, কৃষক দলের নেতা মোল্লা ওলি উল্লাহ, স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ মো. ইব্রাহীম, আনিসুর রহমান সিপন প্রমুখ। উৎস- ব্রেকিংনিউজ

আরো পড়ুন>> মুসলিম নির্যাতনের জবাবদিহিতা করতে মিয়ানমারকে আল্টিমেটাম দিল আন্তর্জাতিক আদালত হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে সে ব্যাপারে জবাবদিহিতা করার

জন্য মিয়ানমার সরকারকে সময়সীমা বেধে দিয়েছে। আইসিসি’র কৌসূলী ফাতাউ বেনসৌদা ওই বিবৃতিতে আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত শেষ সময়সীমা বেধে দিয়েছেন মিয়ানমারকে। আইসিসি’র এই কৌসূলী প্রায়

তিন মাস আগে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা কেন বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

তাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের জুলুম-নির্যাতন ও হামলার বিষয়টি তদন্তের জন্য আইসিসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। আইসিসি মিয়ানমার সরকারকে যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তা

রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের সুযোগ এনে দেবে বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও আইসিসি’র কোনো কোনো সূত্র বলছে, মিয়ানমার সরকার আইসিসি’র সদস্য না হওয়ার কারণে

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের গণহত্যার বিষয়ে তদন্ত করা সম্ভব হবে না। কিন্তু আইসিসি’র কৌসূলী বলছেন, এ বিষয়ে তদন্তের ক্ষমতা ও অধিকার সংস্থাটির রয়েছে এবং এ

কারণে মিয়ানমার সরকারকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। অবশ্য আইসিসি মনে করে মিয়ানমার এ সংস্থার সদস্য না হলেও বাংলাদেশ এর সদস্য। আর সে কারণে বাংলাদেশের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম

নির্যাতনের বিষয়টি তদন্ত করা যাবে। হেগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী আগ্রাসন, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করা এ সংস্থার দায়িত্ব। এ কারণে

আইসিসি রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান এবং নৃশংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত চালাবে বলে সবার প্রত্যাশা। ভূ-রাজনৈতিক গবেষক অ্যান্থনি কার্তালুসি মনে করেন,

আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বলতে যা বোঝায় তা মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইনে সংঘটিত হয়েছে বা এখনো হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের পুরোপুরি নির্মূল করাকেই প্রধান

লক্ষ্য বানিয়েছে মিয়ানমারের খুনিরা। হেগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিসি অনেক দেরিতে হলেও মিয়ানমার সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে কিন্তু এ সংস্থাটি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ডের

সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীরা যাতে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আন্তর্জাতিক সমাজ আশা করছে। উৎস, পার্সটুডে

ব্রেকিং: নজিরবিহীন নিরাপত্তা গাজীপুরে – Diganta

আর মাত্র একদিন বাকি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের। ইতোমধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছেন নির্বাচন কমিশন। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে সার্বিক নিরাত্তার জন্য মোট আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রায় ১১ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানা যায়। ইসির কর্মকর্তারা জানান, এই বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

মোতায়েনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ করা। নির্বাচনী এলাকায় যাতে কেউ গোলযোগ, অনিয়ম করতে না পারে। এছাড়া আসন্ন সিটি কর্পোরেরশন নির্বাচন উপলক্ষে গাজীপুর

সিটির বাসিন্দা বা ভোটার নন এমন সকল লোকদেরকে ২৩ জুন রাত ১২টার আগে নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন ইসি। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, রবিবার রাত

১২টা থেকে অ্যাম্বুলেন্স, ডাক বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশেনের ময়লাবাহী গাড়িগুলো ছাড়া অন্য সব যানবহন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর পণ্যবাহী ট্রাক বিশেষ করে শিপমেন্ট ২৫

তারিখ মধ্যরাত থেকে ২৬ তারিখ মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনার লঙ্ঘন হলে ৬ মাস থেকে ৭ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিত

হবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। নির্বাচনে ৪২৫টি কেন্দ্রে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩৩৭টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৮৮টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৫৭টি সাধারণ এবং ১৯টি

সংরক্ষিত ওয়ার্ড বিশিষ্ট এ সিটি কর্পোরেশনের মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭। এরমধ্যে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৫ জন পুরুষ এবং ৫ লাখ ৬৭হাজার ৮০১ জন নারী ভোটার।

এ নির্বাচনে ৭ জন মেয়র পদে, ৮৪ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মুসলিম নির্যাতনের জবাবদিহিতা করতে মিয়ানমারকে আল্টিমেটাম দিল আন্তর্জাতিক আদালত

হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে সে ব্যাপারে জবাবদিহিতা করার

জন্য মিয়ানমার সরকারকে সময়সীমা বেধে দিয়েছে। আইসিসি’র কৌসূলী ফাতাউ বেনসৌদা ওই বিবৃতিতে আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত শেষ সময়সীমা বেধে দিয়েছেন মিয়ানমারকে। আইসিসি’র এই কৌসূলী প্রায়

তিন মাস আগে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা কেন বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

তাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের জুলুম-নির্যাতন ও হামলার বিষয়টি তদন্তের জন্য আইসিসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। আইসিসি মিয়ানমার সরকারকে যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তা

রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের সুযোগ এনে দেবে বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও আইসিসি’র কোনো কোনো সূত্র বলছে, মিয়ানমার সরকার আইসিসি’র সদস্য না হওয়ার কারণে

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের গণহত্যার বিষয়ে তদন্ত করা সম্ভব হবে না। কিন্তু আইসিসি’র কৌসূলী বলছেন, এ বিষয়ে তদন্তের ক্ষমতা ও অধিকার সংস্থাটির রয়েছে এবং এ

কারণে মিয়ানমার সরকারকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। অবশ্য আইসিসি মনে করে মিয়ানমার এ সংস্থার সদস্য না হলেও বাংলাদেশ এর সদস্য। আর সে কারণে বাংলাদেশের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম

নির্যাতনের বিষয়টি তদন্ত করা যাবে। হেগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী আগ্রাসন, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করা এ সংস্থার দায়িত্ব। এ কারণে

আইসিসি রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান এবং নৃশংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত চালাবে বলে সবার প্রত্যাশা। ভূ-রাজনৈতিক গবেষক অ্যান্থনি কার্তালুসি মনে করেন,

আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বলতে যা বোঝায় তা মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইনে সংঘটিত হয়েছে বা এখনো হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের পুরোপুরি নির্মূল করাকেই প্রধান

লক্ষ্য বানিয়েছে মিয়ানমারের খুনিরা। হেগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিসি অনেক দেরিতে হলেও মিয়ানমার সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে কিন্তু এ সংস্থাটি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ডের

সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীরা যাতে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আন্তর্জাতিক সমাজ আশা করছে। উৎস, পার্সটুডে

যে কারণে আটক হলো জামায়াত-শিবিরের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী!

চট্টগ্রামে পর্যটন করপোরেশনের একটি মোটেল থেকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে নগরীর স্টেশন রোডের মোটেল সৈকতে অভিযান চালিয়ে তাদের ধরা হয় বলে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসাইন জানিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোটেল সৈকতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। সেখান থেকে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। “ঈদ পুনঃমির্লনীর নামে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিল। তবে তারা পুলিশের কাছ থেকে কোন ধরনের অনুমতি নেয়নি।

আমাদের কাছে সংবাদ ছিল জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে গোপন বৈঠকে বসেছে।” আটকদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাইন বলেন, তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে আগে মামলা ছিল তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আটকদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের উচ্চ পর্যায়ের নেতারাও আছেন। ‘পারাবার’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে তারা ঈদ পুনঃমিলর্নী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সংগঠনটি শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সাংস্কৃতিক শাখা। উৎস- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

আরো পড়ুন>> জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ভারতের উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামিক আইন কনফারেন্সে তিন তালাক ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আইন বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (২১জুন) আলোচনা করেন দেওবন্দের প্রিন্সিপাল মুফতি আবুল কাসেম নুমানি। তিনি সর্বপ্রথম তিন তালাক সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, বর্তমানে মানুষ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নিয়ে এসেছে তিন তালাক।

তিন তালাকের বিষয়ে উলামায়ে কেরাম ও উকিল সবারই স্পষ্ট ও স্বচ্ছ জ্ঞান থাকা চাই। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে তালাক বলতে তিন তালাকই। কিন্তু এটা মানুষের একটি ভুল ধারণা ছাড়া আর কিছু্ই নয়। মানুষ রাগের মাথায় এ ভুল কাজটি করে থাকে। ভারতের দীর্ঘদিন ধরে তিন তালাক নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ও আন্দোলনের পর দেশটির আদালত তিন তালাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

যদিও এর বিরুদ্ধে লাখও মুসলিম নারী আপত্তি করেছেন কিন্তু আদালাত তা মানেনি। মুফতি আবুল কাসেম নুমানি মনে করেন, সমাজে ভুল ধারণার প্রেক্ষিতেই আদালত এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার চিন্তা করেছি।

কিন্তু ইসলামের তালাক প্রথা ও তালাক প্রদানের বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এ ভুল ধারণা ও নেতিবাচক মানসিকতা থেকে উত্তরণ সম্ভব। মুফতি আবুল কাসেম নুমানি তার বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ যদি তালাক দিতেই চায় তাহলে শরিয়ত তাকে এক তালাকে রাজয়ি দেয়ার অনুমতি দেয়। তাকে তিন তালাক এক সঙ্গে দেয়ার অনুমতি দেয় না শরিয়ত।

শরিয়ত বলে এক সঙ্গে তিন তালাক নয় বরং একান্তই যদি তালাক দিতেই হয় তাহলে এক তালাক দিতে হবে। ইদ্দত বা সময় সীমা অতিবাহিত হওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যদি বনিবনা হয়ে যায় শুকরিয়া, না হলে আরেক তালাক দিবে। ইদ্দত বা সময় সীমা শেষ হলে তালাকে বায়েন হয়ে যাবে। শরিয়তে তাকে আবারো বিয়ে করা যাবে হালালা (অন্যের কাছে বিবাহ বসা ছাড়া) আবারো বিবাহ করার অনুমতি থাকবে।

শরিয়ত তালাকের বিধান এমন করেই নির্ধারণ করেছে। এক সঙ্গে তিন তালাকের কোনো স্থান নেই শরিয়তে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দিতে চাও, তখন তাদের তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো।

তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোনো সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে।

সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন। (সুরা নিসা-১) হাদিসে এসেছে, হযরত মাকিল ইবনে ইয়াসার রা. এর বোনজামাই তার বোনকে এক তালাক দিয়ে দিলো। তিনি তার বোনকে ফিরিয়ে না নেয়ায় তালাকে বায়েন (যে তালাকের জন্য বিয়ে ছাড়া সংসার করা যায় না) হয়ে গেলো। জামাতা এসে বললেন, আমি তোমার বোনকে আবার বিয়ে করতে চাই।

ইয়াসার রা. রাগান্বিত হয়ে বললেন, আমি তোমার কাছে আমার বোনকে বিয়ে দিলাম আর তুমি তাকে তালাক দিয়ে দিলে, আমি তোমার কাছে দ্বিতীয় বার আমার বোনকে বিয়ে দেবো না। তখন আল্লাহ তায়ালা এ হুকুম করলেন,

তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছে, তখন তাদের যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দিবে। এতদ্দ্বারা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে,

আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। (সুরা নিসা-২) রাসুল সা. এ আয়াত শুনানোর সঙ্গে সঙ্গে সাহাবা ইয়াসার রা. আবার তার বোনকে বিয়ে দিয়ে দিলেন পূর্বের স্বামীর সঙ্গে। ইসলামি শরিয়ত বিবাহ বিচ্ছেদ কামনা করে না। আর তালাক বা বিচ্ছেদ যদি দিতেই হয় তাহলে তিন তালাক নয় বরং আবারো বিবাহের সুযোগ রেখে তালাকে বায়েন পর্যন্ত ইসলামি শরিয়ত পছন্দ করে।

আলেম উলামা আর উকিলগণ সাধারণ মানুষকে এ বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দিলেই মানুষ সচেতন হবে। মানুষ খুব বেশি বেশি বিভিন্ন কোর্স ও কনফারেন্সের মাধ্যমে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। ভাই তালাক হলো দাম্পত্য জীবনের একেবারে শেষ সিদ্ধান্ত। কুরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর,

তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত। (সুরা নিসা-৩৫) আমরা যারা এ বিষয়ে জানলাম তারা তোদের কাছে পৌঁছে দিবে। তাহলেই সমাজে এ বিষয়ে স্পষ্ট হয়ে যাবে। মানুষের মাঝে এ বিষয়ে ভুল ধারণা দূর হবে।

উলামায়ে কেরাম ও উকিলগণের কাছে কেউ যদি তালাক নিয়ে আসে তাকে সঙ্গে সঙ্গে তালাকনামা লিখে দিবেন না। বরং কুরআনে বিয়ে সম্পর্কে যে আলোচনা এসেছে সেগুলো শুনাবে। বুঝানোর চেষ্টা করবে। যে বিবাহ আল্লাহর বড় নেয়ামতগুলোর মধ্যে এক অনন্য নেয়ামত আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর এক নিদর্শন এই যে,

তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গীনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (সুরা রুম-২১)

সমস্যা আমাদের ভিতর, আগামীতে নৌকার ভরাডুবি হবে!

আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতারা বলেছেন, দল (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় থাকায় এখন অনেকেই অন্য দল থেকে যোগদান করছে। এরা অনুপ্রবেশকারী। এদের ঠেকাতে না পারলে আগামীতে নৌকার সলিল সমাধি হবে।

নৌকা খুঁজে পাওয়া যাবে না। তারা দলের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কোনোভাবেই অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। আর জনগণ নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা নিজেদের ভিতরে। জনগণ ভোট দেবে।

কিন্তু আওয়ামী লীগকে হারানোর জন্য আওয়ামী লীগই যথেষ্ট। গতকাল সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দলীয় সভানেত্রীর ভাষণের পর আট সাংগঠনিক বিভাগের আটজন প্রতিনিধি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান।

বর্ধিত সভায় জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাকী বিল্লাহ বলেন, জাতির জনকের হত্যার পর আমাদের জন্য কঠিন সময় গেছে। তখন দলে কাউকে পাইনি। এখন আওয়ামী লীগের ভালো সময় যাচ্ছে। আজ বাইরে থেকে বহু মানুষ নৌকায় উঠেছে।

এভাবে যদি নৌকায় ওঠা অব্যাহত থাকে, আর আমরা যদি তা ঠেকাতে না পারি, তাহলে এই নৌকার সলিল সমাধি হবে। এই নৌকা আর তীর খুঁজে পাবে না। তিনি বলেন, এখনো সময় আছে। জিয়াউর রহমান একদিন বাকশালের ফরম পূরণ করে বঙ্গবন্ধুর হাতে দিয়েছিলেন।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি বলেন, সো হোয়াট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আজও কিন্তু ওই জিয়ার প্রেতাত্মারা, ওই খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মারা হাজারে হাজারে আওয়ামী লীগের ওপর ভর করেছে। সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। সতর্ক না হলে নৌকার সলিল সমাধি হবে।

অনুপ্রবেশকারীদের যে কোনো মূল্যে ঠেকাতে হবে। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ দলীয় সভানেত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি যে আসনগুলোয় সমস্যা আছে, সেখানে যদি দ্রুত একটি টিম পাঠিয়ে সেগুলো সমাধান করতে পারেন, তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো কোনো দল এখন আর নেই।

বিএনপি-জামায়াতকে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু নির্বাচনের দিন কী হবে বলতে পারি না। সেজন্য যেখানে সমস্যা আছে, সেখানে আপনি নিজে হস্তক্ষেপ করে যা ভালো মনে করেন, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন। আপনার সিদ্ধান্ত মেনে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

কিন্তু সেই পরিবেশ ঠিক করে দিতে হবে। তিনি বলেন, অনেক সংসদ সদস্য আছেন যারা দলীয় কর্মসূচিতে যান না, অনুষ্ঠানে যান না, এক মঞ্চে যান না, এমনকি কথাও বলেন না। পাল্টাপাল্টি মারামারি হচ্ছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগকে হারানোর জন্য যথেষ্ট।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু আমরা যদি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এগুলো না বোঝাই, তবে জয়ের কাজটি কঠিন হয়ে যাবে। নেত্রী দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

আমাদেরও রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলা নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করতে হবে। বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, রাজনৈতিক দল কোনো সামরিক বাহিনী নয়। কিন্তু আমরা রাজনৈতিক দলের আদর্শ যদি সামরিক বাহিনীর মতো কমান্ড মেনে চলি, তবে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করতে পারবে।

আমরা যদি আত্মবিশ্বাস নিয়ে, নেত্রীর প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে এগিয়ে যেতে পারি, তবে এ দেশে এমন কোনো শক্তি নেই যা আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে পারে। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অনুসরণ করলেই আর অন্য কিছু করার দরকার পড়বে না।

কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন এখানে বলবেন, সব ঠিক আছে। পরে যদি ভাগে কম পড়ে তখন বলবেন না কিছুই ঠিক হলো না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হলে আমরা জয় পাব। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকেছিলেন।

আমরা খুলনা মহানগর, জেলা, থানা ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা ওয়াদা করেছিলাম, আমরা একসঙ্গে কাজ করব। সেখানে আমাদের একতার ফলে তালুকদার আবদুল খালেক জয় পেয়েছেন। আমরা সেমিফাইনালে জয়লাভ করেছি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৭টি আসনে নৌকাকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে আমরা ফাইনালে জয়লাভ করব। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা যারা উনার কথা মেনে চলেছি তারা কিন্তু ভালো আছি।

অনেকেই হয়ত এমপি মন্ত্রী হইনি। কিন্তু উনি যা দিয়েছেন তাতে কিন্তু আমরা ভালো আছি। গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

এই বক্তব্যে আমরা অনুপ্রাণিত হব, সংগঠনকে শক্তিশালী করব, উন্নয়নের কথাগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব, মানুষের কাছে যাব, মানুষকে সুসংগঠিত করে আগামী নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করব। আজকে সারা দেশের নেতা-কর্মীরা এখানে এসেছেন।

আমরা শেখ হাসিনার ডাকে সারা দিয়ে নিজেদের সংগঠিত করব এবং উন্নয়নশীল দেশ গঠনে ভূমিকা রাখব। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, ‘নেত্রী আপনি যাকেই নৌকা তুলে দেবেন, আমরা তাকেই নির্বাচিত করব।

চট্টগ্রামে যতগুলো আসন সবগুলোতে নৌকা এবং জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করব।’ মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেসার আহমদ বলেন, ‘যে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন তা আমরা সিলেট বিভাগের নেতা-কর্মীরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমরা অতীতের চেয়ে আরও ভালো করব। আপনি যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা আমাদের আগামী দিনের পাথেয় হবে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে আগামী নির্বাচনে আমাদের জন্য পরীক্ষা। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

বেগম জিয়ার প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে গাজীপুরবাসী উন্মুখ হয়ে আছে

আসন্ন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ধানের শীষ প্রার্থী হাসান উদ্দীন সরকারের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেন, কারাবন্দী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে গাজীপুরবাসী আজ উন্মুখ হয়ে আছে।

তারা শুধু মাত্র ভোট দেয়ার সুযোগের অপেক্ষায় আছে। গত ৮ ফ্রেব্রুয়ারি আদালতকে ব্যাবহার করে বেগম জিয়ার প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে গাজীপুরের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে সেই অন্যায়ের জবাব দেবে। শনিবার (২৩ জুন) গাজীপুর সিটির ৪৭ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

খুলনার মত গাজীপুর নির্বাচনেও সরকার ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা আবারও ভোট দখলের চেষ্টা করছে। কিন্তু গাজীপুরের মানুষ সরকারের সেই স্বপ্ন কোনো ভাবেই সফল হতে দেবে না। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে এখান থেকেই গণ আন্দোলনের সৃষ্টি হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

গণ-সংযোগকালে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, সহ আইন বিষয়ক সম্পা্দক এ্যাড. জয়নুল আবদিন মেজবাহ, সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দফরত সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নয়ন, বিএনপি নেতা কৃষিবিদ মেহেদি হাসান পলাশসহ স্থানীয় সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আরো পড়ুন>> জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ভারতের উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামিক আইন কনফারেন্সে তিন তালাক ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আইন বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (২১জুন) আলোচনা করেন দেওবন্দের প্রিন্সিপাল মুফতি আবুল কাসেম নুমানি। তিনি সর্বপ্রথম তিন তালাক সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, বর্তমানে মানুষ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নিয়ে এসেছে তিন তালাক।

তিন তালাকের বিষয়ে উলামায়ে কেরাম ও উকিল সবারই স্পষ্ট ও স্বচ্ছ জ্ঞান থাকা চাই। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে তালাক বলতে তিন তালাকই। কিন্তু এটা মানুষের একটি ভুল ধারণা ছাড়া আর কিছু্ই নয়। মানুষ রাগের মাথায় এ ভুল কাজটি করে থাকে। ভারতের দীর্ঘদিন ধরে তিন তালাক নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ও আন্দোলনের পর দেশটির আদালত তিন তালাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

যদিও এর বিরুদ্ধে লাখও মুসলিম নারী আপত্তি করেছেন কিন্তু আদালাত তা মানেনি। মুফতি আবুল কাসেম নুমানি মনে করেন, সমাজে ভুল ধারণার প্রেক্ষিতেই আদালত এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার চিন্তা করেছি।

কিন্তু ইসলামের তালাক প্রথা ও তালাক প্রদানের বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এ ভুল ধারণা ও নেতিবাচক মানসিকতা থেকে উত্তরণ সম্ভব। মুফতি আবুল কাসেম নুমানি তার বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ যদি তালাক দিতেই চায় তাহলে শরিয়ত তাকে এক তালাকে রাজয়ি দেয়ার অনুমতি দেয়। তাকে তিন তালাক এক সঙ্গে দেয়ার অনুমতি দেয় না শরিয়ত।

শরিয়ত বলে এক সঙ্গে তিন তালাক নয় বরং একান্তই যদি তালাক দিতেই হয় তাহলে এক তালাক দিতে হবে। ইদ্দত বা সময় সীমা অতিবাহিত হওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যদি বনিবনা হয়ে যায় শুকরিয়া, না হলে আরেক তালাক দিবে। ইদ্দত বা সময় সীমা শেষ হলে তালাকে বায়েন হয়ে যাবে। শরিয়তে তাকে আবারো বিয়ে করা যাবে হালালা (অন্যের কাছে বিবাহ বসা ছাড়া) আবারো বিবাহ করার অনুমতি থাকবে।

শরিয়ত তালাকের বিধান এমন করেই নির্ধারণ করেছে। এক সঙ্গে তিন তালাকের কোনো স্থান নেই শরিয়তে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দিতে চাও, তখন তাদের তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো।

তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোনো সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে।

সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন। (সুরা নিসা-১) হাদিসে এসেছে, হযরত মাকিল ইবনে ইয়াসার রা. এর বোনজামাই তার বোনকে এক তালাক দিয়ে দিলো। তিনি তার বোনকে ফিরিয়ে না নেয়ায় তালাকে বায়েন (যে তালাকের জন্য বিয়ে ছাড়া সংসার করা যায় না) হয়ে গেলো। জামাতা এসে বললেন, আমি তোমার বোনকে আবার বিয়ে করতে চাই।

ইয়াসার রা. রাগান্বিত হয়ে বললেন, আমি তোমার কাছে আমার বোনকে বিয়ে দিলাম আর তুমি তাকে তালাক দিয়ে দিলে, আমি তোমার কাছে দ্বিতীয় বার আমার বোনকে বিয়ে দেবো না। তখন আল্লাহ তায়ালা এ হুকুম করলেন,

তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছে, তখন তাদের যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দিবে। এতদ্দ্বারা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে,

আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। (সুরা নিসা-২) রাসুল সা. এ আয়াত শুনানোর সঙ্গে সঙ্গে সাহাবা ইয়াসার রা. আবার তার বোনকে বিয়ে দিয়ে দিলেন পূর্বের স্বামীর সঙ্গে। ইসলামি শরিয়ত বিবাহ বিচ্ছেদ কামনা করে না। আর তালাক বা বিচ্ছেদ যদি দিতেই হয় তাহলে তিন তালাক নয় বরং আবারো বিবাহের সুযোগ রেখে তালাকে বায়েন পর্যন্ত ইসলামি শরিয়ত পছন্দ করে।

আলেম উলামা আর উকিলগণ সাধারণ মানুষকে এ বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দিলেই মানুষ সচেতন হবে। মানুষ খুব বেশি বেশি বিভিন্ন কোর্স ও কনফারেন্সের মাধ্যমে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। ভাই তালাক হলো দাম্পত্য জীবনের একেবারে শেষ সিদ্ধান্ত। কুরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর,

তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত। (সুরা নিসা-৩৫) আমরা যারা এ বিষয়ে জানলাম তারা তোদের কাছে পৌঁছে দিবে। তাহলেই সমাজে এ বিষয়ে স্পষ্ট হয়ে যাবে। মানুষের মাঝে এ বিষয়ে ভুল ধারণা দূর হবে।

উলামায়ে কেরাম ও উকিলগণের কাছে কেউ যদি তালাক নিয়ে আসে তাকে সঙ্গে সঙ্গে তালাকনামা লিখে দিবেন না। বরং কুরআনে বিয়ে সম্পর্কে যে আলোচনা এসেছে সেগুলো শুনাবে। বুঝানোর চেষ্টা করবে। যে বিবাহ আল্লাহর বড় নেয়ামতগুলোর মধ্যে এক অনন্য নেয়ামত আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর এক নিদর্শন এই যে,

তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গীনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (সুরা রুম-২১)

জানা গেল, হটাৎ যে কারনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকলো বিএনপি

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। রবিবার (২৪ জুন) বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। এতে বক্তব্য রাখবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলটির সূত্র জানায়, সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন উর রশিদকে প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন মির্জা ফখরুল।

আরো পড়ুন>> ইসলামে একসঙ্গে তিন তালাক নেই; সমাজ ভুল ধারণায় বসে আছে

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ভারতের উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামিক আইন কনফারেন্সে তিন তালাক ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আইন বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (২১জুন) আলোচনা করেন দেওবন্দের প্রিন্সিপাল মুফতি আবুল কাসেম নুমানি। তিনি সর্বপ্রথম তিন তালাক সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, বর্তমানে মানুষ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নিয়ে এসেছে তিন তালাক।

তিন তালাকের বিষয়ে উলামায়ে কেরাম ও উকিল সবারই স্পষ্ট ও স্বচ্ছ জ্ঞান থাকা চাই। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে তালাক বলতে তিন তালাকই। কিন্তু এটা মানুষের একটি ভুল ধারণা ছাড়া আর কিছু্ই নয়। মানুষ রাগের মাথায় এ ভুল কাজটি করে থাকে। ভারতের দীর্ঘদিন ধরে তিন তালাক নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ও আন্দোলনের পর দেশটির আদালত তিন তালাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

যদিও এর বিরুদ্ধে লাখও মুসলিম নারী আপত্তি করেছেন কিন্তু আদালাত তা মানেনি। মুফতি আবুল কাসেম নুমানি মনে করেন, সমাজে ভুল ধারণার প্রেক্ষিতেই আদালত এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার চিন্তা করেছি।

কিন্তু ইসলামের তালাক প্রথা ও তালাক প্রদানের বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এ ভুল ধারণা ও নেতিবাচক মানসিকতা থেকে উত্তরণ সম্ভব। মুফতি আবুল কাসেম নুমানি তার বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ যদি তালাক দিতেই চায় তাহলে শরিয়ত তাকে এক তালাকে রাজয়ি দেয়ার অনুমতি দেয়। তাকে তিন তালাক এক সঙ্গে দেয়ার অনুমতি দেয় না শরিয়ত।

শরিয়ত বলে এক সঙ্গে তিন তালাক নয় বরং একান্তই যদি তালাক দিতেই হয় তাহলে এক তালাক দিতে হবে। ইদ্দত বা সময় সীমা অতিবাহিত হওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যদি বনিবনা হয়ে যায় শুকরিয়া, না হলে আরেক তালাক দিবে। ইদ্দত বা সময় সীমা শেষ হলে তালাকে বায়েন হয়ে যাবে। শরিয়তে তাকে আবারো বিয়ে করা যাবে হালালা (অন্যের কাছে বিবাহ বসা ছাড়া) আবারো বিবাহ করার অনুমতি থাকবে।

শরিয়ত তালাকের বিধান এমন করেই নির্ধারণ করেছে। এক সঙ্গে তিন তালাকের কোনো স্থান নেই শরিয়তে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দিতে চাও, তখন তাদের তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো।

তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোনো সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে।

সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন। (সুরা নিসা-১) হাদিসে এসেছে, হযরত মাকিল ইবনে ইয়াসার রা. এর বোনজামাই তার বোনকে এক তালাক দিয়ে দিলো। তিনি তার বোনকে ফিরিয়ে না নেয়ায় তালাকে বায়েন (যে তালাকের জন্য বিয়ে ছাড়া সংসার করা যায় না) হয়ে গেলো। জামাতা এসে বললেন, আমি তোমার বোনকে আবার বিয়ে করতে চাই।

ইয়াসার রা. রাগান্বিত হয়ে বললেন, আমি তোমার কাছে আমার বোনকে বিয়ে দিলাম আর তুমি তাকে তালাক দিয়ে দিলে, আমি তোমার কাছে দ্বিতীয় বার আমার বোনকে বিয়ে দেবো না। তখন আল্লাহ তায়ালা এ হুকুম করলেন,

তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছে, তখন তাদের যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দিবে। এতদ্দ্বারা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে,

আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। (সুরা নিসা-২) রাসুল সা. এ আয়াত শুনানোর সঙ্গে সঙ্গে সাহাবা ইয়াসার রা. আবার তার বোনকে বিয়ে দিয়ে দিলেন পূর্বের স্বামীর সঙ্গে। ইসলামি শরিয়ত বিবাহ বিচ্ছেদ কামনা করে না। আর তালাক বা বিচ্ছেদ যদি দিতেই হয় তাহলে তিন তালাক নয় বরং আবারো বিবাহের সুযোগ রেখে তালাকে বায়েন পর্যন্ত ইসলামি শরিয়ত পছন্দ করে।

আলেম উলামা আর উকিলগণ সাধারণ মানুষকে এ বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দিলেই মানুষ সচেতন হবে। মানুষ খুব বেশি বেশি বিভিন্ন কোর্স ও কনফারেন্সের মাধ্যমে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। ভাই তালাক হলো দাম্পত্য জীবনের একেবারে শেষ সিদ্ধান্ত। কুরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর,

তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত। (সুরা নিসা-৩৫) আমরা যারা এ বিষয়ে জানলাম তারা তোদের কাছে পৌঁছে দিবে। তাহলেই সমাজে এ বিষয়ে স্পষ্ট হয়ে যাবে। মানুষের মাঝে এ বিষয়ে ভুল ধারণা দূর হবে।

উলামায়ে কেরাম ও উকিলগণের কাছে কেউ যদি তালাক নিয়ে আসে তাকে সঙ্গে সঙ্গে তালাকনামা লিখে দিবেন না। বরং কুরআনে বিয়ে সম্পর্কে যে আলোচনা এসেছে সেগুলো শুনাবে। বুঝানোর চেষ্টা করবে। যে বিবাহ আল্লাহর বড় নেয়ামতগুলোর মধ্যে এক অনন্য নেয়ামত আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর এক নিদর্শন এই যে,

তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গীনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (সুরা রুম-২১)