কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউটার্ন নিয়েছেন: ফখরুল

কোটা সংস্কার ও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি কোনো রাজনীতি করছি না এমন দাবি করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউটার্ন নিয়েছেন। কোটা

নিয়ে হাইকোর্ট যা বলেছে সেটা রায় না পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।’ বুধবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেকার যুবকদের যে ন্যায়সঙ্গত কোটা সংস্কারের আন্দোলন। কিন্তু রেগেমেগে সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বললেন- কোনো কোটাই থাকবে না। এখন আপনি বলছেন, হাইকোর্টের রায়ের বাইরে যাওয়া যাবে না। আদালত কি বলেছে? যা বলেছে কোটা নিয়ে সেটা রায় নয়, পর্যবেক্ষণ। এই কথাটা আমরা অনেকেই

বলছি না। আপনি পর্যবেক্ষণকে অ্যাভোয়েট করলেন- ত্রয়োদশ সংশোধনী যেটা পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাতিল হলো সেখান থেকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা আপনি রাখলেন। যেটা আপনার সুবিধা

যেটাতে আদালতকে ব্যবহার করছেন আর যেটায় অসুবিধা সেখানে আদালতকে ব্যবহার করছেন না। পরিষ্কার করে বলতে চাই কোটা এবং বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো রাজনীতি করছি না। যেটা

সত্য আমরা সেটা জনগণের কাছে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তুলে ধরছি।’ বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি নোংরা রাজনীতি করছে- ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল

বলেন, ‘এই ধরনের কথা বলে তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক মামলায় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য, আসন্ন নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখার জন্য

তারা কারারুদ্ধ করা হয়েছে। তাকে তাঁর ন্যূনতম আইনি সুযোগ তিনি প্রাপ্য সেখান থেকে বঞ্ছিত করা হয়েছে। মূল মামলায় জামিন পেলেও এখন একটার পর একটা মিথ্যা মামলাকে সামনে এনে মুক্তিকে বিলম্ব

করছে। তারা তাকে ততদিন পর্যন্ত কারাগারে রাখতে চায় যতক্ষণে তাদের অভিষ্ট লক্ষ্য পূরণ না হয়।’ সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘তাদের দাম্ভিকতা কোনো পর্যায়ে গেছে যে বাংলাদেশের সব

থেকে জনপ্রিয় নেত্রী, যিনি কোনোদিন কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি তাকে নির্জন কারাগারে রেখেছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তার চিকিৎসক এবং পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া

হচ্ছে না। আর আমরা চিকিৎসার কথা বললেই তারা বলে সব ঠিক আছে। আবার বলে কারাবিধিতে নেই। সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।’ আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা যখন

কারাগারে ছিলেন তখন কানের চিকিৎসার জন্য তিনি স্কয়ার হাসপাতালে যাননি? আপনাদের দলের নেতারা যারা কারাগারে ছিলেন তারা অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেননি। আমরা দাবি করছি অবিলম্বে

বেগম খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’ রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ককটেল হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বুলবুলের প্রচার মিটিংয়ের

মধ্যে বোমা মারলো, এরপর সঙ্গে সঙ্গে হামলার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করে তারা বললো, এই এখন বিএনপি বলবে আমরা বোমা মেরেছি, কিন্তু আসলে আমরা মারিনি। এটা প্রমাণ করে আপনারাই এটা

মেরেছেন, আপনারাই নির্বাচনকে বিতর্কিত করছেন। ঠাকুরঘরে কে রে, আমি কলা খাই না’র মত অবস্থা হয়েছে।’ নির্বাচনের নামে খেলা খেলা, তামাশা চলছে বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। সাবেক

এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের অভিষ্ঠ লক্ষ্য হলো আবারো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় যাওয়া। এর মাধ্যমে তারা আবারো একদলীয় শাসন

পাকাপোক্ত করতে চায় ভিন্ন মোড়কে।’ সরকারের চরিত্র, লক্ষ্য সবার কাছে পরিষ্কার এমন দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘দুর্নীতি কোনো পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে সোনা রাখার পর সেটা

বদলে ধাতু জাতীয় জিনিস রাখা হয়েছে। অলঙ্কারগুলো বদলে সেখানে নকল জিনিস রাখা হয়েছে।’ ‘এরআগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হ্যাকিং করে টাকা লুট করা হলো। যার প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করতে

পারেনি। অর্থমন্ত্রী বলছেন, যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের হাত অনেক লম্বা। এই লম্বা হাত হয় তাহলে তাদের হাতে রেখে আপনি চলে যান না কেন? আপনি বারবার এই ধরনের লোকদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন,

আশ্রয় দিচ্ছেন এবং সরকারের ইচ্ছা পূরণ করছেন। আর বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্পূর্ণ ফোকলা করে দিচ্ছেন।’ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর

রহমান। এসময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, বিএনপির প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।

মালয়েশিয়ায় বিএনপি নেতার দায়ের করা মামলায় পং পং গ্রেফতার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে পং পং নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে মালয়েশিয়া পুলিশ।

জানা গেছে, ওই ব্যক্তি কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

যা নিয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের মাঝে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এ নিয়ে গত দুইদিন আগে মালয়েশিয়া বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মামুন বিন

আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে আইসিটি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মালয়েশিয়া পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে পং পংকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত

মালয়েশিয়া প্রবাসী পং পং দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে লাইভ করে আসছেন। এবং সম্প্রতি

ফেসবুক লাইভে সিলেটের মেয়েদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। সর্বশেষ খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানের নামে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় লাইভে মন্তব্য করেন।

তার বাড়ি বরিশাল জেলায় বলে জানা গেছে। তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া প্রবাসী। বিডি প্রতিদিন

আরো পড়ুন>> খালেদাকে ‘চিরতরে’ সরাতে চক্রান্ত চলছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে চরম অবনতির দিকে ঠেলে দিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার সরকার নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল

কবির রিজভী। “খালেদা জিয়া নতুন কোনো রোগে আক্রান্ত হননি, তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর সরকারি ব্যবস্থাপনার বাইরে বেগম জিয়াকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

খাঁন কামালের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কথাই সত্যি হচ্ছে তারা বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে দুরভীসন্ধিমূলক এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। লোক মুখে

যে কথা প্রচারিত তাই সত্য হচ্ছে, রাজনীতি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার জন্যই তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।’ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয়

কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। “দেশে কোন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা ঘটছে না। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অথবা দুটি মনের মিলনে উড়াল দিচ্ছে, আর বলা হচ্ছে গুম”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যেরও উত্তর দেন রিজভী। বলেন, ‘জবাবদিহিহীন ভোটারবিহীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই কেবল এই ধরণের উদ্ভট, ভারসাম্যহীন, অসত্য কথা বলে নির্যাতিত নিপীড়িত জনগণের সঙ্গে

এমন নিষ্ঠুর রসিকতা করতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ রাখতে এমন বানোয়াট ও অসত্য বক্তব্য প্রদান ছাড়া তার কোন উপায় নেই।’ ‘প্রতিদিন বিচার বর্হিভূত হত্যার হিড়িক চলছে। গুম করা হচ্ছে রাজনৈতিক

দলের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে। দুঃসময়ের আতঙ্কজনক কালো রাত সৃষ্টি করে এই সরকার সারাদেশকে নরমুণ্ডের পাহাড় বানাতে চাচ্ছে।’ “দেশে গণতন্ত্র আছে বলেই বিএনপি দলীয়

কার্যালয়ে বসে সংবাদ সম্মেলন করতে পারে, আর প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করে বক্তব্য দিতে পারে” সেতুমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আওয়ামী নেতারা মূঢ় অহংকারের কারণে

বিস্মৃতপ্রবণ। আওয়ামী নেতারা কি ভুলে গেছেন সরকারের সমালোচনা করার কারণে গভীর রাতে দলীয় কার্যালয় ভেঙ্গে তছনছ করার কথা, ২০১৩ সালে পুলিশ ঢুকিয়ে বিএনপি মহাসচিব ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ

১৫৪ জন নেতাকর্মীদের আটক করে নিয়ে যাবার কথাও কি তারা ভুলে গেছেন?’ ‘তাহলে তখন কি আপনাদের তথাকথিত গণতন্ত্র ছিল না? কয়েকদিন আগে একতরফা জাতীয় সংসদের ভেতরে খালেদা জিয়া

সম্পর্কে যে উদ্ভট, অলীক, অসংসদীয়, অশ্রাব্য কুটুবাক্য প্রধানমন্ত্রী ব্যবহার করেছেন সেটি কোন গণতান্ত্রিক রীতিতে পড়ে? বিএনপিসহ অন্য দলের সভা-সমাবেশের অনুমতি না দেয়া কোন গণতান্ত্রিক রীতিতে

পড়ে?’ ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন কোন গণতান্ত্রিক রীতি? বন্দুকের জোরে দেশের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করে দেশ

থেকে বিতাড়ন, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করা, ধমক দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা, কোন গণতান্ত্রিক রীতি?’ এসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকে রিজভী অনুরোধ করেন ‘আয়নায় ভাল করে নিজেদের চেহারাটা দেখার’ জন্য।

এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ইয়াবা সম্রাট এমপি বদি

সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে গত প্রায় দুই মাসে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। অথচ কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের বিতর্কিত সরকারদলীয়

সংসদ সদস্য ইয়াবা সম্রাট আবদুর রহমান বদি এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কেউ আইনের উর্ধে নয়।

অথচ সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিদিন নিহতের সংখ্যা বাড়লেও বদির বিরুদ্ধে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। মাদকবিরোধী অভিযানের আগে পাঁচটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার সমন্বয়ে মাদক ব্যবসায়ী

ও পৃষ্ঠপোষকদের একটি তালিকা তৈরি করে সরকার। সেই তালিকায় মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছে বদির নাম। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় এক নম্বরে আছে বদির নাম। স্বরাষ্ট্র

মন্ত্রণালয়ের করা টেকনাফের শীর্ষ মানব পাচারকারীর তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। দেশে মাদক ইয়াবার গডফাদার ও ব্যবসায়ীর তালিকায় টানা ১০ বছর ধরে ছিল বদির নাম। কিন্তু গত মার্চ মাসে একটি

সংস্থার তালিকা থেকে সেই নাম বাদ দেওয়া হয়। তবে সেই তালিকায় বদির পাঁচ ভাই, এক ফুপাতো ভাই, দুই বেয়াই ও এক ভাগ্নের নাম আছে। এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে সরকারি কোনো হিসাব না পাওয়া

গেলেও মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসেবে গত ১৫ মে থেকে ১৬ জুলাই রবিবার পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে ২০২ জন। কিন্তু এসব মৃত্যুর ঘটনায় কারা জড়িত কিংবা

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিবরণই সত্যি কি না – সেটি এখনো জানা যায়নি। যদিও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত করে দেখা হয় বলে বলা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ যাই বলুন, এ

অভিযানটি বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গত ২৬ মে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অডিও প্রকাশের পর। একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম তার স্বামীর মৃত্যুর

জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করেছিলেন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে এই হত্যার তদন্তের কথা বলা হলেও এখনও কোন তথ্য দেয়া হয়নি। মাদকবিরোধী অভিযানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

খাঁন কামাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তৈরি করা তালিকায় যাদের নাম মিলে যাচ্ছে তাদেরই কেবল আটক করা হচ্ছে, এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ক্রসফায়ারের

অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। অন্যদিকে, বদিকে নিয়ে সরকারের অবস্থান জনমতে ক্ষোভ দেখা গেছে। আমাদেরসময়.কম এর অনেক পাঠক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশিষ্টজনেরাও এনিয়ে অনেক

লেখালেখি করেছেন। তারপরেও বদির বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তারা মনে করেন, মাদকবিরোধী অভিযান অনেক আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে ইকরামুল হকের হত্যা ও ইয়াবা সম্রাট এমপি বদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় সারাদেশে সমালোচনা বর্তমানে। উৎসঃ আমাদের সময়

তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে আ’লীগ ও বিএনপি দ্বন্দ্ব মেটাতে ৩শ’ নেতা মাঠে

রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ৩০ জুলাই। তিন সিটিতেই জয় পেতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। জয়ের পথ মসৃণ করতে প্রচার থেকে শুরু করে সবদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে তারা।

নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেন নেতিবাচক ফল না আনে, এজন্য সতর্ক দুই দলই। সবদিক বিবেচনায় নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে আলাদা সমন্বয় কমিটি করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

বিভিন্ন দল-উপদলে প্রায় ৩০০ কেন্দ্রীয় নেতা চষে বেড়াচ্ছেন তিন সিটি। প্রচার ও গণসংযোগে অংশ নেয়ার পাশাপাশি তারা বসছেন স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে। দ্বন্দ্ব মিটিয়ে এক করে নেতাকর্মীদের নামিয়ে দিচ্ছেন নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে। তবে আওয়ামী লীগ বলছে, দলে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, যা আছে মান-অভিমান। সেটিও আলোচনাতেই মিটে যাচ্ছে।

নেতাদের নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বৈঠক

তিন সিটিতেই জয় নিশ্চিত করতে নির্ঘুম কাজ করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। দলে দলে সফর করছেন এসব নগরে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে নামছেন। যেখানে নেতাকর্মীদের মধ্যে সুপ্ত বা প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেখানে তা নিরসনে স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বসছেন। আর খুলনা ও গাজীপুরে নৌকার বিজয় যেন পথ দেখিয়েছে তিন সিটিতে দলের নেতাকর্মীদের।

সূত্রমতে, একেকটি দলে রয়েছেন ৭ থেকে ১০ জন। তারা পর্যায়ক্রমে তিন সিটিতে অবস্থান নিয়ে কাজ করছেন। এমন কয়েকজন যুগান্তরকে জানিয়েছেন, এসব সিটিতে অন্য সিটির মতো সমস্যা নেই, দলীয় বিভেদ কম। প্রার্থী বা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কিছু নেতাকর্মীর মান-অভিমান আছে। আমরা এগুলো ভাঙানোর জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ করছি। সামান্য উদ্যোগেই এসব দূর হচ্ছে।

দ্বন্দ্ব না থাকার কারণ কী- জানতে চাইলে তারা বলেন, কোথাও কোথাও কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন দেয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কাউন্সিলরে যাকেই সমর্থন দেয়া হোক, মেয়রের ক্ষেত্রে সবাই একাট্টা। যেসব ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নির্বাচন করছেন, তারাও নিজের পাশাপাশি নৌকার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।

তিন সিটি মনিটরিংয়ে থাকা এক শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে পর্যবেক্ষণ করেছি। দলীয় প্রার্থী নিয়ে তাদের অবস্থান নেতিবাচক কি না, জানার চেষ্টা করছি।

কিন্তু না, তারা মনোযোগ দিয়েই নৌকার পক্ষে কাজ করছেন। বরিশাল নিয়ে আমাদের একটু সংশয় ছিল। সেটিও কেটে গেছে। এই তিন সিটিতে বিজয় হলে গাজীপুরে আজমত উল্লার মতো বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহীতে কয়েকজন নেতা পুরস্কৃত হবেন।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী মঙ্গলবার বলেন, কেন্দ্র থেকে একটি টিম অনবরত বরিশালে কাজ করছে। একটি টিম সোমবার থেকে কাজ করছে। আজ (মঙ্গলবার) আমরা এসেছি। সকাল থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাজ করছি। তিনি বলেন, আমরা নৌকার পক্ষে গণসংযোগের পাশাপাশি ওয়ার্ড নেতাদের নিয়ে বৈঠক করছি। এখানে নৌকার অবস্থা খুবই ভালো।

বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বরিশালে নৌকার জোয়ার উঠেছে। উন্নয়নবঞ্চিত এ অঞ্চলের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়।

এখানে আওয়ামী লীগের মনোয়ন দেয়া হয়েছে তারুণ্যের প্রতীক সাদিক আবদুল্লাহকে। জনপ্রিয়তা দিয়েই তিনি জয়লাভ করবেন আশা করছি। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, ‘বরিশালে আমাদের কেন্দ্রীয় টিমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধি (ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা) যোগ দিয়েছেন। তাদের নিয়ে পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের নিয়ে বৈঠক করছি। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করে দিয়েছি।’

মান-অভিমানের বিষয়ে আফজাল হোসেন বলেন, এখন বরিশালে আর মান-অভিমান নেই। সবাই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। ঐক্যবদ্ধ থেকেই তারা সবাই নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে চান।

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় টিমের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক। এ টিমে আছেন রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এরই মধ্যে একটি টিম রাজশাহী গিয়ে কাজ করছে। টিমে রাজশাহী অঞ্চলের কেন্দ্রীয় নেতা ও উপকমিটির সদস্যদের রাখা হয়েছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, রাজশাহীতে সাবেক মেয়র ও বর্তমান আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের আমলে যে কাজ হয়েছে, গত ৫ বছরে বিএনপির মেয়র তার চুল পরিমাণও করতে পারেনি। উন্নয়নবঞ্চিত রাজশাহীর মানুষ এখন উন্নয়ন চায়। এজন্য তারা নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে। আশা করি, বিপুল ভোটে রাজশাহীতে লিটন বিজয়ী হবেন।

সিলেট নিয়েও আশাবাদী আওয়ামী লীগ। এখানে নির্বাচনী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। মঙ্গলবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সিলেটে আওয়ামী লীগ এখন অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। এটাকে মহা ঐক্যই বলা যায়। তিনি বলেন, এখানকার নেতাকর্মীরা খেয়ে না খেয়ে প্রচারে অংশ নিচ্ছে। এখন সিলেটের মানুষ আগের থেকে অনেক সচেতন। তারা উন্নয়নের ক্ষেত্রে আর ভুল করবে না। তারা নিজেদের স্বার্থে নৌকাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে।

আহমদ হোসেন বলেন, আমরা কেন্দ্র থেকে একটি টিম সিলেটে কাজ করছি। ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা যাতে ক্ষমতার ভাব না দেখায়, সেটি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছি। ওয়ার্ড নেতাদের নানা পরামর্শও দিচ্ছি। উঠান বৈঠক করে ভোটারদের সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরছি। আজও (মঙ্গলবার) সিলেট মেডিকেল কলেজ, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি জায়গায় নির্বাচনী সমাবেশে কথা বলেছি। সবক্ষেত্রে সাড়া ব্যাপক। আশা করি, বিপুল ভোটে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করবে।

প্রচারের সঙ্গেই চলছে বিভেদ মেটানো

তিন সিটিতে নির্বাচন পরিচালনায় তিন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ‘সমন্বয়কের’ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গড়া হয়েছে ‘অঞ্চলভিত্তিক টিম’। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও গঠন করা হয়েছে একাধিক কমিটি।

অঞ্চলভিত্তিক টিমে সদস্যসংখ্যা প্রায় অর্ধশত। এসব টিম নেমে পড়েছে মাঠে। এসব টিমের শতাধিক সদস্য এরই মধ্যে বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটে অবস্থান নিয়েছেন। প্রচারণার পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে কাজ করছেন তারা। স্থানীয় টিমগুলো তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে।

রাজশাহী সিটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা রাজশাহীতে এসে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

পর্যায়ক্রমে অন্য নেতারাও আসবেন। খুলনা ও গাজীপুর নির্বাচনের পর ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। এই ভীতি দূর করতেই কেন্দ্রীয় নেতারা ভোটারদের সাহস দিচ্ছেন। ধানের শীষের পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। দুলু আরও বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যে টুকটাক মনোমালিন্য আছে, আলোচনায় বসে সেগুলো মিটিয়ে ফেলা হচ্ছে।

সূত্রমতে, রাজশাহীতে সমন্বয়ক করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। এছাড়া বরিশালে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সিলেটে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অঞ্চলভিত্তিক টিমগুলো গড়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেসব কেন্দ্রীয় নেতার বাড়ি তাদের নিয়ে। যেসব কেন্দ্রীয় নেতার বাড়ি রাজশাহী বা আশপাশে তাদের নিয়ে রাজশাহীর আঞ্চলিক টিম গড়া হয়েছে। রাজশাহীতে স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও সদস্য সচিব মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

সিলেটে স্থানীয় পর্যায়ে দুটি কমিটি করা হয়েছে। একটির সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ হক ও সদস্য সচিব কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক। আরেকটির সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মোক্তাদির ও সদস্য সচিব জেলা সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ। বরিশালে সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার ও সদস্য সচিব দক্ষিণের সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন। এছাড়াও তিন সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদাভাবে ‘নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ করেছে বিএনপি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় রাজশাহীতে অবস্থান করে ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাদিম মোস্তফাসহ অনেকে।

বরিশালে মির্জা আব্বাস দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও প্রচারে অংশ নিচ্ছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবায়দুল হক চাঁন, নির্বাহী কমিটির সদস্য দুলাল হোসেন প্রমুখ।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, ধানের শীষের প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তবে ভোটাররা নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের কথা বেশি বলছেন। কারণ তারা তো খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচনের কথা জানেন।

সিলেটেও ধানের শীষের পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর আগে প্রচার চালিয়েছেন। দুই-এক দিনের মধ্যে আবারও সিলেটে যাবেন তিনি। এ ছাড়াও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ যুগান্তরকে জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার নেমেছে সিলেটে। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন।

যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও দুই-এক দিনের মধ্যে তিন সিটিতে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন। পাশাপাশি বিএনপিসমর্থিত পেশাজীবী সংগঠনগুলোও তাদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নামবে।

জামায়াত-বিএনপির তীব্র টানাপোড়েন, এবার যা হতে যাচ্ছে..

বছরজুড়ে বিএনপির ছত্রছায়ায় একসঙ্গে অভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও ভোট এলেই বিএনপির সঙ্গে দরকষাকষিতে নামেন জামায়াত নেতারা। তবে দাবি আদায় হোক বা না হোক, শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষেই

কাজ করে জামায়াত। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচন সামনে রেখে এবার আগের অবস্থানে চলে গেছে জামায়াত। ভোটের দিন পর্যন্ত যদি জামায়াত এ অবস্থান ধরে রাখে, তাহলে ধানের শীষের

ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এবার তফসিল ঘোষণার আগেই রাসিক নির্বাচনে জামায়াত তাদের মহানগর আমীর সিদ্দিক হোসাইনকে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করে। শেষ পর্যন্ত মেয়র পদে

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকেই সমর্থন দেয় জামায়াত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দরকষাকষির একপর্যায়ে জামায়াত ৫টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ ছেড়ে দেয়ার দাবি করেছিল বিএনপির কাছে। কিন্তু সেই দাবি

আমলে না নেয়ায় জামায়াতের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াত ও শিবির নেতাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ক্ষোভ আর অভিমানের মিশেলে দেয়া সেই স্ট্যাটাসেও

ধানের শীষের প্রার্থীকে জামায়াতের সমর্থন দেয়া নিয়েও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রয়েছে। সেখানে বিএনপির প্রতি হুমকিও ছুড়ে দেয়া হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি, জামায়াতের প্রচার

ও মিডিয়া শাখার প্রধান আশরাফুল ইসলাম ইমন সম্প্রতি ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে বলেন, ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জামায়াত-শিবির দিনরাত বিএনপির মেয়র প্রার্থী বুলবুলের জন্য কাজ

করে। ফলে বুলবুল বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত বুলবুলের পক্ষে জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতাকর্মী ভোটের মাঠে নামেননি। ভবিষ্যতে নামবেন, সেটাও নিশ্চিত নয়। ইমনের বিরুদ্ধে

নাশকতার তিন ডজন মামলা রয়েছে। এদিকে রোববার ইমন আরেকটি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘২০১৩ সালে বুলবুলের জন্য নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিল জামায়াত। অথচ এবার ২০১৮ সালে তারা এখন পর্যন্ত নাই

কেন? এই ব্যর্থতা কার? রাজশাহী বিএনপির ঘাঁটি হওয়ার পরও জামায়াতের সঙ্গবিহীন বিএনপি তাদের মেয়র প্রার্থী বুলবুলকে জিতিয়ে আনা তো দূরের কথা, বিএনপি তাদের প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আনতে

পারবে কি না, তা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। বিএনপির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের জয়ী হওয়ার আশা রেখে তাকে অগ্রিম শুভেচ্ছাও

দিয়েছেন। রাজশাহী জামায়াতের একাধিক সূত্র বলছে, ২০১৩ সালের ভোটে জামায়াত শুধু একটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর এবং দু’জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিয়েছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের

সঙ্গে সমঝোতায় সেটা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এবার জামায়াত রাজশাহীতে ১৪টি ওয়ার্ডে দলের একক প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াত দুটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডেও নারী কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়েছে। এসব ওয়ার্ডেও বিএনপির

একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির মহানগর ও জেলা নেতারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাদের দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ায় বেশি চটেছে জামায়াত ও শিবির। ফলে তারা বুলবুলের ধানের শীষের

পক্ষে কোথাও কোনো গণসংযোগে নামেননি। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, জামায়াত সবসময় বিএনপির ছত্রছায়ায় রাজনীতি করেছে। কিন্তু এখন তারা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। তারা ভাবছে,

আগামী দিনে আবারও শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকবে। মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত জামায়াতের নেতারা বিএনপি নেতার জন্য মাঠে নামাকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন না। তারা দেখছে, আওয়ামী

লীগ ক্ষমতায় এলে বুলবুলকে মেয়র বানিয়ে কোনো লাভ নেই। এতে জেল-জুলুম আরও বাড়বে। তারা ভাবছে, বিএনপিকে সমর্থন না দিলে অনায়াসেই রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লিটন জিতে যাবেন।

কিছুটা হলেও তারা লিটনের কাছে ছাড় পাবে। রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর জন্য মাঠে না নামার কারণও এই একটা। রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আবু ইউসুফ সেলিম বলেন,

‘কাউন্সিলর পদে বিএনপি-আওয়ামী লীগ কেউই একক প্রার্থী দিতে পারেনি। তারা বলেন, যে জিতে আসবে, সে-ই তাদের প্রার্থী। দলীয়ভাবে কাউন্সিলর প্রার্থী দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভবও নয়। তাই আমরাও ১৬টি

ওয়ার্ডে বিএনপির পাশাপাশি একক প্রার্থী দিয়েছি। সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডেও দু’জন প্রার্থী দিয়েছি। আমরা কাউন্সিলর নিয়েই ভাবছি। বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে জামায়াত সমর্থন দেবে কি না, তা এ মুহূর্তে নিশ্চিত

করে বলতে পারছি না। তিনি জানান, ১৯৯৪ সালের সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ১৯ হাজার ভোট পেয়েছিল। রাজশাহীতে জামায়াতের ৪০ হাজার ভোট রয়েছে। বিএনপি প্রার্থী এবারও জামায়াতের ভোট ছাড়া

জিততে পারবে বলে মনে করেন না। অন্যদিকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনকে জামায়াত নেতা ইমনের লেখা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বুলবুল ২০ দলীয়

জোটের প্রার্থী। জামায়াত বিএনপির শরিক দল। তাদের উচিত ধানের শীষের পক্ষে দ্রুত মাঠে নামা। তবে তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে প্রয়োজনে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে ক্ষোভের প্রশমন ঘটানো হবে।

খালেদাকে ‘চিরতরে’ সরাতে যে গোপন চক্রান্ত চলছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে চরম অবনতির দিকে ঠেলে দিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার সরকার নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল

কবির রিজভী। “খালেদা জিয়া নতুন কোনো রোগে আক্রান্ত হননি, তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর সরকারি ব্যবস্থাপনার বাইরে বেগম জিয়াকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন

কামালের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কথাই সত্যি হচ্ছে তারা বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে দুরভীসন্ধিমূলক এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। লোক মুখে যে

কথা প্রচারিত তাই সত্য হচ্ছে, রাজনীতি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার জন্যই তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।’ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয়

কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। “দেশে কোন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা ঘটছে না। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অথবা দুটি মনের মিলনে উড়াল দিচ্ছে, আর বলা হচ্ছে গুম”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যেরও উত্তর দেন রিজভী। বলেন, ‘জবাবদিহিহীন ভোটারবিহীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই কেবল এই ধরণের উদ্ভট, ভারসাম্যহীন, অসত্য কথা বলে নির্যাতিত নিপীড়িত জনগণের সঙ্গে

এমন নিষ্ঠুর রসিকতা করতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ রাখতে এমন বানোয়াট ও অসত্য বক্তব্য প্রদান ছাড়া তার কোন উপায় নেই।’ ‘প্রতিদিন বিচার বর্হিভূত হত্যার হিড়িক চলছে। গুম করা হচ্ছে রাজনৈতিক

দলের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে। দুঃসময়ের আতঙ্কজনক কালো রাত সৃষ্টি করে এই সরকার সারাদেশকে নরমুণ্ডের পাহাড় বানাতে চাচ্ছে।’ “দেশে গণতন্ত্র আছে বলেই বিএনপি দলীয়

কার্যালয়ে বসে সংবাদ সম্মেলন করতে পারে, আর প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করে বক্তব্য দিতে পারে” সেতুমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আওয়ামী নেতারা মূঢ় অহংকারের কারণে

বিস্মৃতপ্রবণ। আওয়ামী নেতারা কি ভুলে গেছেন সরকারের সমালোচনা করার কারণে গভীর রাতে দলীয় কার্যালয় ভেঙ্গে তছনছ করার কথা, ২০১৩ সালে পুলিশ ঢুকিয়ে বিএনপি মহাসচিব ও সিনিয়র

নেতৃবৃন্দসহ ১৫৪ জন নেতাকর্মীদের আটক করে নিয়ে যাবার কথাও কি তারা ভুলে গেছেন?’ ‘তাহলে তখন কি আপনাদের তথাকথিত গণতন্ত্র ছিল না? কয়েকদিন আগে একতরফা জাতীয় সংসদের

ভেতরে খালেদা জিয়া সম্পর্কে যে উদ্ভট, অলীক, অসংসদীয়, অশ্রাব্য কুটুবাক্য প্রধানমন্ত্রী ব্যবহার করেছেন সেটি কোন গণতান্ত্রিক রীতিতে পড়ে? বিএনপিসহ অন্য দলের সভা-সমাবেশের অনুমতি না

দেয়া কোন গণতান্ত্রিক রীতিতে পড়ে?’ ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন কোন গণতান্ত্রিক রীতি? বন্দুকের জোরে দেশের প্রধান

বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করে দেশ থেকে বিতাড়ন, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করা, ধমক দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা, কোন গণতান্ত্রিক রীতি?’ এসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকে রিজভী অনুরোধ করেন ‘আয়নায় ভাল করে নিজেদের চেহারাটা দেখার’ জন্য।

আরো পড়ুন>> ‘ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছে আফ্রিকান আর মুসলিমরা’

জন্মসূত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি করা ফরাসী দল বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে বর্ণবৈষম্য ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে ইন্টারনেটে।

রোববার ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর পর ইসলাম ভীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় মার্কিন লেখক খালেদ বেইদউন বহুজাতিক এই দলের জন্য ‘সুবিচার’ দাবী করে একটি টুইট করেন। টুইটে লেখা ছিল, ‘বিশ্বকাপ

জেতায় ফ্রান্স দলকে অভিনন্দন। ফ্রান্সের ৮০ ভাগ খেলোয়াড় আফ্রিকান, বর্ণবৈষম্য ও বিদেশি ভীতি বর্জন করুন। আপনার দলের ৫০ ভাগ খেলোয়াড় মুসলিম, ইসলামভীতি ত্যাগ করুন। আফ্রিকান আর

মুসলিমরা আপনাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতিয়েছে, এবার তাদের ন্যায়বিচার দিন।’ তাঁর এই পোস্টটি ১ লক্ষ ৬৩ হাজার বার রিটুইট করা হয়েছে এবং রোববার পোস্ট হওয়ার পর থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার

লাইক পেয়েছে। এবারের ফরাসী দলকে বিশ্বকাপের অন্যতম বহু-সাংস্কৃতিক দল বলা হচ্ছে। ফ্রান্স দলের ২৩ জন খেলোয়াড়ের ১৫ জনই আফ্রিকান বংশোদ্ভূত, যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন ফরাসী উপনিবেশ

থেকে এসেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এমন মন্তব্যও করেছেন যে খেলোয়াড়রা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত হলেও বাস্তবে প্রত্যেকেই ফরাসী। খেলাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন করায়

বেইদউন’এর সমালোচনাও করেন অনেকে। অনেকে ধারণা করছেন এই টুইটের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। সাম্প্রতিক শরণার্থী সঙ্কট আর কয়েকটি সন্ত্রাসী

হামলার কারণে ফ্রান্সে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষের সহাবস্থান বিঘ্নিত হয়েছে। এনিয়ে দ্বিতীয়বার ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতলো। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের আগে ফ্রান্সের কট্টর রক্ষণশীল নেতা জাঁ ম্যারি

লে’পেঁ আলজেরিয়ান বংশদ্ভূত জিনেদিন জিদান সহ দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের সমালোচনা করেন। তিনি দাবী করেন ওই দলের খেলোয়াড়দের অনেকেই ‘বিদেশি এবং ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত

গায় না।’ তবে এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কট্টর রক্ষণশীল নেতাদের এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। আরেকজন টুইটারে আশা প্রকাশ করেন যে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ে ফ্রান্সের এই বর্ণবিদ্বেষী মনোভাব পরিবর্তন হবে। সূত্র: বিবিসি

কৌশলে আ’লীগে ঢুকেছে বিএনপি-জামায়াতের কয়েক হাজার নেতাকর্মী !

গ্রিক ইতিহাসের ট্রোজান হর্স বা ট্রয়ের ঘোড়ার গল্পটি যে কত সত্য, এ যুগে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার তা একবার টের পেয়েছিলেন। তিনি এই ঘোড়াদের নাম দিয়েছিরেন ‘এনিমি উইদিন’ বা ভেতরের শত্রু। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বাইরের শত্রুকে ভয় পাই না। কিন্তু ভেতরের শত্রুকে ভয় পাই। তাঁর কথার মর্মার্থ ছিল, শত্রুপক্ষ বাইরে থেকে আঘাত করে কোনো দলকে ঘায়েল করতে না পারলে মিত্র বেশে সেই দলে ঢোকে এবং দলটিকে ধ্বংস করতে চায়। মার্গারেট থ্যাচারের এই সতর্কবাণী মনে হয় দীর্ঘকাল পর বাংলাদেশেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের কানে ঢুকেছে।

কয়েক দিন আগে ঢাকার কাগজে একটি খবরে বলা হয়েছিল, বিএনপি ও জামায়াতের দুই শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের টিকিটে এখন জনপ্রতিনিধি, এমনকি অনেক স্থানে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেও। এ ছাড়া আওয়ামী লীগে নানা কৌশলে ঢুকেছে এমন বিএনপি-জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকের সংখ্যা কয়েক হাজার।

দেরিতে হলেও খবরটি অর্থাৎ দলে দলে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের কৌশলটি দলের হাইকমান্ডের চোখে পড়েছে। শেখ হাসিনা এই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আভাস দিয়েছেন। সম্প্রতি গণভবনে আওয়ামী লীগের এক বর্ধিতসভায় তিনি বলেছেন, তাদের দল থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্যে সংগ্রহ করা এসব অনুপ্রবেশকারীর নামধামসহ একটি তালিকা তাঁর হাতে এসেছে।

তাদের সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির নেতৃত্বে গঠিত ছয় সদস্যের এক কমিটিকে। দলের যেসব নেতা বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা এসব লোককে দলে ভিড়িয়েছেন, গণভবনের সভায় তিনি তাঁদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, ‘মনে রাখবেন, যাদের আপনারা দলে ভেড়াচ্ছেন, তারা আপনার মিত্র নয়। তারা আসে মধু খেতে। আমি তাদের সম্পর্কে একটা সার্ভে করিয়েছি, তাদের তালিকা আমার কাছে আছে। কেউ যদি তাদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন, এখনই তাদের বিদায় করুন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীবাহিনী গড়ে তুলুন।’

শুধু হুঁশিয়ারি দেওয়া নয়, দলে অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের প্রশ্রয়দানকারীদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। খবরে বলা হয়েছে, তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতার সঙ্গে বৈঠক এবং দীপু মনি-কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অনুপ্রবেশকারী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবেন। নানা কারণে বিএনপি-জামায়াতের লোকরা আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রদলের বহু সদস্য ও সমর্থক ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছে। এই যোগ দেওয়ার প্রথম কারণ, তারা বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে সাধারণ মানুষের ওপর এত অত্যাচার করেছে যে পরিবর্তিত অবস্থায় জনগণের রোষ থেকে বাঁচার জন্য এখন আওয়ামী লীগে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়গ্রহণ।

বহু আগে সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন যে ছাত্রদলের বহু দুষ্কৃতী ছাত্রলীগে ঢুকেছে। তাদের স্বভাব বদলায়নি। ছাত্রলীগের জার্সি পরে তারা একই দুর্বৃত্তপনা করছে। দুর্নাম হচ্ছে ছাত্রলীগের। লাভ হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের। খবরের কাগজের পাতা খুললেই ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তপনার খবর। এই মুখোশধারী ছাত্রলীগারদের মুখোশ খুলে দিতে হবে।

কিন্তু দীর্ঘকাল এই মুখোশ খুলে দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগেও একই ব্যাপার ঘটেছে। আওয়ামী লীগের বহু নেতা, মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, এমপি স্থানীয়ভাবে তাঁদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বজায় রাখা এবং দলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাবু করে রাখার জন্য বিএনপি-জামায়াতের লোকদের নিয়ে নিজেদের গ্রুপ গঠন করেছেন এবং তাদের আওয়ামী লীগার বানিয়েছেন। শুধু আওয়ামী লীগার নয়, বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাইয়ে দিয়ে আগের নির্বাচনে বহু পরাজিত প্রার্থীকে জয়লাভে সাহায্য করেছেন এবং বিভিন্ন উঁচু পদে বসিয়েছেন।

এরও দীর্ঘ তালিকা বেরিয়েছে সংবাদপত্রে। উদাহরণ হিসেবে শুধু একটি ঘটনার উল্লেখ করি। নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে পরাজিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম। এ রকম উদাহরণ অসংখ্য। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের যেসব নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর দারুণ নির্যাতন করেছে, সংখ্যালঘুদের ভিটাছাড়া করেছে, এখন তারা আওয়ামী লীগের হোমরাচোমরা হয়ে সাধারণ মানুষের ওপর একই ধরনের অত্যাচার করছে।

গত বছরের মে মাসে যখন আমি বাংলাদেশে গেছি তখন আমার জেলা বরিশালের এক সংখ্যালঘু নেতা আমার কাছে নানা অভিযোগ জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগকে আর ভোট দেব কেন? এখন তো আমাদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতারাই।’ আমি তাঁকে বলেছি, দাদা, একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন, এই অত্যাচারীরা প্রকৃত আওয়ামী লীগের কি না, নাকি তারা দুই দিন আগেই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ছিল? এই নব্য আওয়ামী লীগারদের অত্যাচারে দেশের মানুষ এখন জর্জরিত। কিন্তু এই নব্য আওয়ামী লীগারদের আসল প্রশ্রয়দাতা আওয়ামী লীগের কিছু পুরনো নেতাকর্মী, মন্ত্রী, এমপি। তাঁরা এলাকায় নিজের ও পরিবারের আধিপত্য বজায় রাখা, তাঁদের শোষণ-লুণ্ঠন-দুর্নীতি ঢাকা দেওয়া, প্রতিপক্ষকে দমন করে রাখা ইত্যাদি কাজে বিএনপি-জামায়াতের দুর্বৃত্ত শ্রেণির নেতাকর্মীদের ব্যবহার করেন। এ কারণে দেশের কোনো কোনো এলাকায় এই দুর্বৃত্তরা এখনো আওয়ামী লীগের প্রকৃত কর্মী ও সমর্থকদের ওপর নির্যাতন চালানোর সাহস ও সুযোগ পায়।

রাজবাড়ীর এক এমপির কথা শুনেছি, যিনি তিন-তিনবার জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন। তবু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, এলাকায় নিজের একাধিপত্য বজায় রাখার জন্য তিনি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করেন। সরকারি গম-চাল বণ্টন নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ আছে। তা চাপা দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার চালান। তাঁর যারা সমর্থক নয়, আওয়ামী লীগের এমন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের লোকরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের সুযোগ পেয়েছে তাদের অর্থবিত্তের সাহায্যে এবং আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে কৌশলে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে তারা বৈধ ও অবৈধ পথে ব্যবসা-বাণিজ্য করে অঢেল অর্থের মালিক হয়। এখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতাহারা হওয়ার পর তারা এই অর্থ, ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করে।

তারা আওয়ামী লীগের এক শ্রেণির নেতাকর্মীকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পার্টনার করে ডিরেক্টর, ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে বসায়। তখন এই পার্টনারদেরই দায়িত্ব হয় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থসম্পদ রক্ষা এবং তা পাহারা দেওয়ার।

জামায়াতিদের আত্মরক্ষার আরেকটি কৌশল হলো, সুযোগমতো তাদের সমর্থক নয় এমন পরিবারের, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সমর্থক পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা। এসব পরিবারে পরিকল্পনামতো নিজেদের ছেলে বা মেয়ের বিয়ে দিয়ে ওই পরিবারে অনুপ্রবেশ করা এবং পরিবারটির সমর্থন জামায়াতের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। রাজশাহীতে, বিশেষ করে বিনোদপুর এলাকায় তাদের এই এক্সপেরিমেন্ট অত্যন্ত সফল হয়েছে। রাজশাহী এখন জামায়াতের ও ছাত্রশিবিরের শক্ত ঘাঁটি। সাম্প্রতিক কোটা পদ্ধতিবিরোধী আন্দোলনেও এটা দেখা গেছে।

একটি সাধারণ নির্বাচন একেবারে সামনে নিয়ে দলে ব্যাপক সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া সহজ নয়। এই সংস্কারে হাত দেওয়া উচিত ছিল বহু আগে। কারণ আওয়ামী লীগ যে অনুপ্রবেশকারীদের দখলে চলে যাচ্ছে, বিভিন্ন মহল থেকে এই সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে বহু আগে। এখন নতুনভাবে উচ্চারিত হলো মাত্র। আওয়ামী লীগে এত দিনে ট্রয়ের ঘোড়ার দল শক্তভাবে ঘাঁটি গেড়েছে।

তবু শেখ হাসিনা এই ট্রয়ের ঘোড়াদের সম্পর্কে সতর্ক হয়েছেন এবং তাদের কবল থেকে দলকে মুক্ত করার শক্ত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন—এটা আশার কথা।

স্থানীয় সরকারের মতো যাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে না পারে সে জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দীপু মনি-কমিটির প্রতিবেদনসহ অন্যান্য প্রতিবেদন ব্যাপক যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তা ছাড়া বলেছেন, যাঁরা ক্ষমতায় থেকে জনবিচ্ছিন্ন, দখলবাজ, নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে সংগঠনের ক্ষতি করেছেন, এলাকায় গডফাদারের ভূমিকা নিয়ে দলকে করেছেন বিতর্কিত, এমন এমপি, মন্ত্রী নৌকা প্রতীক পাবেন না। দলের বর্ধিতসভায় তৃণমূলের নেতারাও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নেত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

‘আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগ’—এই প্রবচন সত্য হয়েছে দলে অনুপ্রবেশকারীদের অবাধ প্রভাব বিস্তারের জন্য। দেরিতে হলেও তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। সে ব্যবস্থা অবশ্য গ্রহণ করতে যাওয়া হচ্ছে। তবে কথা হলো, ‘লোম বাছতে কম্বল উজাড় হয়ে না যায়।’

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

সোনা নিয়ে যা বললো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের সোনা কেলেঙ্কারির যে তথ্য সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ বিষয়টি পরিষ্কার করতে মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) বিকেলে মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সোনা কেলেঙ্কারির অভিযোগ সত্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে ছয়টি স্টেপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে।

সমস্যা যেটা দেখা গেছে সেটা হলো, এই সোনা যখন রাখা হয়েছিল তখনকার গুণগত মান নিয়ে। এই গুণগত মানের যে পার্থক্য তা হলো ৪০ এবং ৮০।

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বর্ণকার যখন এটা পরীক্ষা করেছেন তখন ৪০ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা দেখেছেন কিন্তু লেখার সময় ৮০ হয়ে গেছে, এছাড়া কোনো ব্যতয় হয়নি।

এর আগে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট কাস্টম হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত একটি সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ওই চাকতি এবং আংটি যথাযথ ব্যক্তি দিয়ে পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ (১৯ দশমিক ২ ক্যারেট) বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয়।

কিন্তু দুই বছর পর পরিদর্শন দল ওই চাকতি ও আংটি পরীক্ষা করে তাতে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১ দশমিক ২ ক্যারেট) সোনা পায়। আংটিতে পায় ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ সোনা (৩ দশমিক ৬৩ ক্যারেট)। ধারণা করা হচ্ছে ভল্টে রাখার পর এগুলো পাল্টে ফেলা হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, ভল্টে থাকা সোনার চাকতি এবং আংটি পরীক্ষার পর দেখা গেল এগুলো সোনার নয়, অন্য ধাতুর মিশ্রনে তৈরি। এতে সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এদিকে, সোনা কেলেঙ্কারির এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য দিতে শুরু করেন। মঙ্গলবার সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ ঘটনাকে সকালের গাফিলতি বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের গাফিলতিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।’

মধ্যরাতে স্কুলছাত্রীর ঘরে এসআই, অতঃপর…

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার রামচন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের টুআইসি এএসআই শিবু হালদারের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ক্যাম্প পার্শ্ববর্তী মহিষগাড়ি গ্রামের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে প্রতারণা করেছেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্কেরও অভিযোগ উঠেছে। খবর সময়ের।

অভিযোগে জানা গেছে, ওই ছাত্রীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন টুআইসি এএসআই শিবু হালদার। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দীর্ঘদিন এ ঘটনা চলার এক পর্যায়ে গত ৯ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে গ্রামের কিছু যুবক ওই ছাত্রীর বাড়ি থেকে শিবু হালদারকে ধরে ফেলে।

তাকে মারধর শুরু করলে এক পর্যায়ে অস্ত্র উচিয়ে বাড়ি থেকে পালাতে সক্ষম হন তিনি। শিবু হালদার ও কনস্টেবল বেলায়েত সাদা পোশাকে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন।

বেশির ভাগ সময় শিবু হালদার নির্ধারিত সরকারি পোষাক না পরে সাদা পোশাকে এলাকায় অবস্থান করেন বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এদিকে সরেজমিনে মহিষগাড়ি গ্রামে গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্প পুলিশ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। ঘটনা সম্পর্কে কেউ কিছু বললে তাদের হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানিয়েছেন।

পুলিশের নারী কেলেঙ্কারীর এ ঘটনা মহিষগাড়ি, মাইলমারি, শেখপাড়া, রামচন্দ্রপুরসহ কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষের মুখে মুখে ঘুরে ফিরছে। তারা এর তদন্ত সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই কিশোরী সহ তাদের পরিবার গ্রাম ছাড়া হয়েছে।

তাদের বাড়িতে কাউকে দেখা যায়নি। ঘটনার পর থেকে পরিবারটি গ্রাম ছাড়া। ৩ লাখ টাকায় ঘটনা মিমাংসার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারকে।

রামচন্দ্রপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. রিয়াজ হোসেন মেয়ের পরিবারকে দফায় দফায় হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া ঘটনাকে পুঁজি করে সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতারক পক্ষে-বিপক্ষে মেয়ের নানা রকম বক্তব্য ভিডিও করে রেখেছে। ক্যাম্পেও অনেকে ফোন করে নিউজ করার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করছে বলে জানা গেছে।

গ্রামের অনেকে বলেছেন, কার্ড দেখিয়ে বা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক পরিচয়ে মেয়ের পরিবার ও গ্রামবাসী বক্তব্য নিয়েছেন। নানা কথা বলেছেন কিন্তু টিভি পত্রিকার খবরে আসেনি। মোটা অংকের টাকায় সব ম্যানেজ করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

মধ্যরাতে ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যাওয়া ও ঘটনা প্রসঙ্গে এএসআই শিবু হালদার বলেন, মেয়েটির মা একটি গাছ বিক্রি করবে। পূর্ব পরিচিতির সম্পর্ক ধরে তাদের বাড়িতে মধ্যরাতে নয় সন্ধ্যার দিকে গিয়েছিলাম । তারপর একটি মিথ্যা ঘটনা কেউ কেউ সাজিয়েছে বলে আমি শুনেছি।

আর রামচন্দ্রপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, আগের একটি আসামি ধরাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী উপজেলা হরিণাকুণ্ডুর একটি মহল শিবু হালদারের ওপর অসন্তোষ ছিল। তাদের মাধ্যমে কিছু রটিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি এএসআই শিবু হালদারের কোন ত্রুটি বা দোষ খুঁজে পাননি বলে জানিয়েছেন।

শৈলকুপা থানার ওসি কাজী আইয়ুবুর রহমান জানান, আমি মঙ্গলবার শৈলকুপা থানায় যোগদান করেছি। এমন কোন ঘটনা জানা নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।

বিএনপির সঙ্গে বসতে আ. লীগের পাঁচ শর্ত

সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমামসহ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। আর গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক

ওবায়দুল কাদেরেরে সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। দুটি আলোচনাতেই বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ও এতে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে আলাপ হয়েছে।

জানা গেছে, কূটনৈতিক ভাবে বিভিন্ন দেশ ও জোট ক্ষমতাসীন দলকে চাপ দিচ্ছে। অনুরোধ করা হচ্ছে, যেন নির্বাচনের আগে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপের সূচনা করা হয়। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক যেন হয় সেই কথা বলছে ইইউ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে ওবায়দুল কাদের এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাওয়া এইচ. টি. ইমাম কূটনীতিকদের কাছে বিএনপি সঙ্গে আলোচনায় যেতে পাঁচটি শর্ত দিয়েছেন।

১. বিএনপি গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দেওয়া ৭ ধারা পুনর্বহাল করতে হবে। বিএনপির নেতৃত্ব হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত। দুর্নীতিবাজ কোনো নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে কোনো সংলাপ করতে পারে না।

২. যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে বিএনপিকে। যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী এবং জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিএনপি নিবিড় যোগাযোগ। উগ্র মৌলবাদী, যুদ্ধাপরাধী, দেশদ্রোহীদের দোসর কারও সঙ্গে আওয়ামী লীগ বৈঠকে বসতে পারে না।

৩. বিএনপি এখনো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকার করে না এবং শোক দিবস পালন করে না। অথচ সংবিধানিক ভাবেই এটি স্বীকৃত। বিএনপিকে যদি বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হয়,

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ করতে হয় তাহলে অবশ্যই জাতির পিতাকে স্বীকার করে নিতে হবে। এই দিনে শোক দিবস পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টে বেগম জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন করা যাবে না। ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার সব ধরনের উৎসব বাতিল করতে হবে।

৪. বিএনপিকে বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। অন্যায্য ও অযৌক্তিক কোনো দাবি নিয়ে আলোচনা হতে পারে না। আলোচনা হতে হবে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন। সাংবিধানিক বহির্ভূত কোনো নির্বাচন বা কোনো কথা গ্রহণযোগ্য হবে না।

৫. বিএনপিকে নিয়ে সংলাপ হবে নির্বাচন কীভাবে আরও সফলভাবে করা যায় তা নিয়ে। নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে কোনো সংলাপ হবে না। নির্বাচন কীভাবে ভালো করা যায় তা নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে যাওয়ার অঙ্গীকারপূর্বক বিএনপিকে সংলাপে যেতে হবে।

জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ঢাকাস্থ অফিসকে সংলাপের শর্তগুলো জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে আজ রোববার বা কাল সোমবার বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। দুটি মাধ্যমেই বিএনপিকে আওয়ামী লীগের শর্তগুলোর কথা জানানো হবে।

আওয়ামী লীগের দেওয়া শর্তগুলো বিএনপি মেনে সংলাপে যেতে চাইলে সেই কথা ইইউ প্রতিনিধি ও মার্কিন দূতাবাস মারফত আওয়ামী লীগকে জানানো হবে। আর এরপরই হতে পারে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংলাপ।