১৪ দলের বৈঠকে ড. কামালকে তুলাধোনা

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪-দলের নেতারা। গতকাল রাজধানীর তোপখানা রোডে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪-দলের বৈঠকে নেতারা বলেন, মোহাম্মদপুরের একটি বাড়িতে বৈঠক ও ড. কামাল হোসেনের গুণ্ডাতন্ত্র এবং তাকে গুলি করে মারার আহ্বান-এই মুহূর্তে দেশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র।

যিনি নিজেকে গুলি করে মারার কথা বলেন, তিনি জঙ্গির চেয়েও খারাপ। ড. কামাল গংরা দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে চান। ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিকের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪-দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, জাসদ (একাংশ) শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জেপির শেখ শহিদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, অসিত বরণ রায়, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, বাসদের রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেন ইস্যুতে আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি গত সোমবার ড. কামাল হোসেনের দেওয়া বক্তব্য- ‘গণতন্ত্র নয়; দেশে আছে গুণ্ডাতন্ত্র, ‘আমাদের গুলি করে মারা হোক’-এর প্রতি ১৪-দলের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ষড়যন্ত্র আজকে কোথায় গেছে, ড. কামাল হোসেন যিনি নিজেকে সিনিয়র সিটিজেন দাবি করেন, তিনি কীভাবে এমন বক্তব্য রাখেন। কামাল হোসেন গুণ্ডাতন্ত্রের কথা বলে তিনি নিজেই গুণ্ডামি করছেন। বাংলাদেশ নিয়ে যে ড. কামাল হোসেনরা দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এর প্রমাণ তার আত্মাহুতি দিতে চাওয়া। আত্মাহুতি দিতে চাওয়া জঙ্গির চেয়েও খারাপ।

তারা দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে চান। মোহাম্মদপুরে গোপন বৈঠক আর পরবর্তীতে এমন বক্তব্য প্রমাণ করে তারা কীভাবে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চান। পরে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া এবং গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ও ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, কেউ কারও বাসায় দাওয়াতে যেতেই পারেন। কিন্তু উনি তো একজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করে যেতে পারতেন। কেন উনি এভাবে প্রটোকল ভেঙে গেলেন? বাংলাদেশ সরকার উনার চলাচলের ওপর তো কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি? তাহলে এত লুকোচুরি কেন? এই গোপনীয়তাই প্রমাণ করে বৈঠকটি সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ ছিল।

সূত্র জানায়, বৈঠকে জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান নির্বাচনের আগে আরও আন্দোলনের আশঙ্কা করেন। গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন কাঠামো, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, ‘গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনের দাবি নিয়ে সরকারকে নির্লিপ্ত মনে হচ্ছে। সরকারের প্রতিশ্রুতিতে এমপিওভুক্তি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে গেলেও তারা আউটপুট না পেলে আবারও রাজপথে নামতে পারে।

আর সুযোগ সন্ধানীরা এসব ইস্যু কাজে লাগাতে পারে। নির্বাচনের আগে সরকারকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জানা গেছে, বৈঠকে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে জোট নেতারা তাদের ক্ষোভের কথাও জানান। আইনে সর্বনিম্ন শাস্তি উল্লেখ না থাকাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকার কথা তারা বৈঠকে তুলে ধরেন। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

মুখপাত্রের বক্তব্য : বৈঠক শেষে ১৪-দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের শক্তি ঐক্যবদ্ধ ছিল বলে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের কয়েকজন নামকরা রাজনীতিবিদ উসকানিমূলক কথা বলেছেন। একজন মানুষ যখন ব্যর্থ হন তখন তিনি আবোল-তাবোল কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তারা সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে এক হয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অনেক চেষ্টা করেছে। এ ধরনের ব্যক্তিরা জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে জাতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত।

তারা বার বার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে।’ জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাস্তায় লাইসেন্স ছাড়া কোনো গাড়ি চলবে না। আমাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করবেন। লাইসেন্স ছাড়া কোনো এমপি-মন্ত্রীর গাড়িও যাতে ছাড় না পায়, সেদিকে নজর দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। উৎস- বিডি প্রতিদিন

[ad_2]

পুলিশ ও গোয়েন্দাদের দিয়ে তুলে নিয়ে সরকার ভুল করছে: জাফরুল্লাহ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র আনতে হলে সত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ড. কামালকে সামনে আসতে হবে। অনেক কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো করতে হবে। ৯ আগস্ট বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া- এর আয়োজনে ‘কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশের মালিক জনগণের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তখন স্বপ্ন ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এখন জনগণের সঙ্গে সরকার সব ক্ষেত্রে চালাকি করছে। গোয়েন্দা বাহিনী ও পুলিশ দিয়ে দেশ শাসন করছে। কেই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে তুলে নেয়া হচ্ছে। এটা ভুল কাজ হচ্ছে। সরকার ভুল করছে। এসব করে লাভ হবে না। তার চেয়ে জনগণকে কথা বলতে দিন।

কথা বলতে দিলে গুজব ছড়াবে না। কথা বলতে না দিলে গুজব ছড়াবেই। আলোচনা সভায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য মিলু চৌধুরী, হাবিবুর রহমান, যুব ঐক্যের আহ্বায়ক মুহাম্মদ হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উৎস- শীর্ষনিউজ

[ad_2]

ঐক্যবদ্ধ হলে স্বৈরশাসক বিদায় নিতে বাধ্য হবে : ড. কামাল

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে স্বৈরশাসনকে বিদায় নিতে হবে বা দেশ ছাড়তে হবে। তা না হলে আমাদের সাথে একমত হতে হবে। এ ব্যাপারে গ্যারান্টিও দিতে পারি। তিনি বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন,অন্যায় কোনদিন এদেশর জনগণ মেনে নেয়নি। তারা পরিবর্তন আনেই।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে ‘কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশের মালিক জনগণের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, এদেশ আমাদের। যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম তা বাস্তবায়ন সম্ভব। ৭১’এ কেউ কি ভেবেছিল যে আমরা ন’মাসে স্বাধীন হব। এখন বলা হচ্ছে স্বৈরশাসন আমাদের শেষ করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু জনগণকে উপেক্ষা করে গণতন্ত্র হয় না। তিনি ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্তদের বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভর করলে চলবে না।

তিনি সম্প্রতি স্কুল শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, ছাত্ররা দেখিয়ে দিয়ে কিভাবে দেশ চালাতে হয়। তিনি বলেন, এদেশ কোন ব্যক্তি গোষ্ঠী পরিবারের নয়। দেশের মালিক জনগণ। সবাই দেশের মালিক। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের মালিককে সারা দেশে প্রচার প্রচাণায় নামতে হবে। দেশ রক্ষায় জনগণকেই ঐকবদ্ধ হতে হবে। উদ্যোগ জনগণকেই নিতে হবে।

ড. কামাল হোসেন ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত সকলকে দেশের সবত্র ঈদেও ছুটিতে সমমনাদের কাছে যেতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ২০০৮’এ এজাতি ঘুরে দাড়িয়েছিল। তাই আবারও ঘুরে দাড়াবে এজাতি। তিনি বলেন, সবাই দেশের মালিক। সবাই নিজেকে দেশের মালিক হিসাবে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন তিনি।

যে যতটুকু পারে তাকে সে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান তিনি। জনগণকে বোঝানোর দায়িত্ব নিতে বলেন তিনি। কোন ব্যক্তির ওপর ভর না করতে পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, দেশকে আইনের পথে নিয়ে আসার ব্যাপারে সবাইকে বোঝাতে হবে। আর যারা উল্টো পথে আছে তাদের থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে জনগণকে বোঝাতে তিনি ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্তদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এধরণের কাছে অবশ্যই সাড়া পাওয়া যাবে।

ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, হালুয়া রুটির ভাগের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেনি দেশবাসী। তিনি বলেন, জনগণকে কথা বলতে দিতে হবে। জনগণ কথা বললে কোনো ধরণের গুজব সৃষ্টি হবে না। জনগণকে পুলিশ দিয়ে দমানো যাবে না। তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তার জন্যও গণতন্ত্র দরকার।

সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন,প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আসুন সবাই ঐকবদ্ধ হই। কার কোন দল তা এখন বাদ। ঘরে আগুন লেগেছে তাই অঅজে তা নেভাতে হবে।

আলোচনা সভায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ,ব,ম, মোস্তফা আমীন, গণফোরাম নেতা মোশতাক আহমেদ, সাম্যবাদী দলের নেতা হারুণ চৌধুরী, প্রকৌশলী ম . ইনামুল হক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন প্রমুখ।

[ad_2]

দ্রুতই পরিবর্তন হবে: ড. কামাল

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার দ্রুতই পরিবর্তন হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ৯ আগস্ট বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া- এর আয়োজনে ‘কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশের মালিক জনগণের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালে এরশাদ সরকারের আমলে ব্রিটিশ মন্ত্রী আমাকে বলেন- তোমার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে এসেছি। তিনি বললেন- আরো ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকবেন। আমি তখন বললাম, আমি তো তাকে ১৫ সপ্তাহও ক্ষমতায় দেখিনা। তখন সেপ্টেম্বর মাস ছিল।

আল্লাহর রহমতে ১৫ সপ্তাহের মধ্যেই আমরা মুক্ত হলাম। আমি ১৯৯১ সালে আমি লন্ডনে গেলে ব্রিটিশ ফরেন মিনিস্টার আমাকে দেখে লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন- তুমি কিভাবে ভবিষ্যদ্বাণী দিলে- ১৫ সপ্তাহও এরশাদ ক্ষমতায় থাকবে না। আর সেটাই হল! তখন মনে মনে হেসে বললাম, মনের জোরে বলেছিলাম। ড. কামাল বলেন, বাঙালিদের মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। অন্যায় যখন সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যায় তখন আমরা দাঁড়িয়ে যাই যে, আর মেনে নেয়া যায় না।

পরিবর্তন আনতে হবে। এটা একবার না। বার বার আমরা প্রমাণ করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি বলে পেরেছি। সেটা সেই আশির দশকেও পেরেছি। তার আগেও পেরেছি। এখনো পারার মতো সেই অবস্থা আছে। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করি তাহলে হবে। একবার নয় বহুবার পরিবর্তন হয়েছে।

ইনশাআল্লাহ, আবার হবে এবং দ্রুতই হবে। তিনি বলেন, কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া হবে- এই নামটা বলার দরকার নেই। কিসের কামাল হোসেনের নেতৃত্ব। আপনি নিজেই একটা নেতৃত্ব। আপনারা সবাই একজন নেতা। নামটা বলার অর্থ কি? আমি মরে গেলে কি তাহলে ঐক্য হবে না।

তখন কি সবাই পরাধীন থাকবেন? আমি আপনাদের সহকর্মী হিসেবে যতদিন জীবিত আছি আপনাদের সঙ্গে থাকব। না থাকলে আপনাদেরই জাতীয় ঐক্য করতে হবে। একক নেতা খোঁজার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একক নেতা খোঁজা খুব ভুল জিনিস। এটা থেকে মুক্ত হতে হবে।

আজকে আমি সুযোগ পেয়েছি, এটা ভেঙে বলব। সবারই নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা আছে। কারো বেশি কারো কম। কিন্তু সকলের মধ্যেই উদ্যোক্তা হয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে। দেশ তো আমাদের সকলের। বাংলাদেশ কোন ব্যক্তির না, গোষ্ঠির না; কোন পরিবারেরও না।

এই কথাটা আমাদের সকলের অন্তর থেকে বিশ্বাস করতে হবে। এটা বিশ্বাস করেছিলাম বলে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি। এটা বিশ্বাস করেছিলাম বলে কতো দুর্ঘটনা ঘটলো। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটলো। হত্যাকারীদের কি আমরা হ্যান্ডশেক করে ছেড়ে দিয়েছি? না। তাদের বিচার করেছি।

এছাড়া, ২০০৫ সালে আমরা জাতীয় ঐক্য করে দেখিয়েছি। আবার ২০০৫ সালের মতো ঐক্য করা সম্ভব। গণফোরাম সভাপতি বলেন, আপনারা সবাই দেশের মালিক। মালিক হিসেবে নিজেকে মূল্যায়ন করেন। নিজে নিজের জায়গা থেকে কে-কি অবদান রাখতে পারবেন সেটা ভাবেন। উদ্যোগ নেন।

আশেপাশে সমমনা যাদের পান তাদের বলেন, দেশের পরিবর্তন আনা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা ও যারা, উল্টো পথে আছে তাদের থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। এভাবে যদি আমরা মুভ করি, তাহলে আমি মনে করি- বাংলাদেশের মতো আর কোন দেশ পাবেন না, যেখানে এরকম সাড়া পাওয়া যায়।

ড. কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন জেলে আটকা পড়লেন তখন কি জনগণ বসে ছিল যে- উনি জেল থেকে বের হোক তারপর আমরা তার নেতৃত্বে যুদ্ধ করব। বঙ্গবন্ধুরও নির্দেশ ছিল- ‘তোমাদের যার যা কিছু আছে তা নিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়ো’। ওই কথাটা সবাই রক্ষা করেছে।

প্রবীণ এ নেতা বলেন, কয়েকদিন আগে স্কুলের দুইটা ছেলে-মেয়ে মারা যাওয়ার পর কিভাবে ছেলে-মেয়েরা নেমে গেল। ওরা কি বলেছিল অমুকের নেতৃত্বের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি? উনি এসে নেতৃত্ব দিলে আমরা রাস্তা ঠিক করবো। তা করেনি। সবাই নেমে গিয়েছে।

তিনি বলেন, এখনে কোনো শক্তি নেই যে, আমাদের এতো কোটি বাঙালীকে মেরে পরাধিন রাখবে। আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখবে। এই শক্তি পৃথিবীতেও কোথাও নেই। আমাদের দেশে তো নেই-ই। জনগণকে মেরে কোন লাভ হবে না। এই দেশ আমাদের। তাই আমাদের দেশকে গড়ার জন্য কারো অনুমতি লাগবে না।

তিনি বলেন, আমরা ১৯৪৭ সাল থেকে লড়াই করছি। আইয়ুব খান বলেছিল আমরা অস্ত্রের ভাষায় জবাব দেব। আজকে কোথায় অস্ত্র, আর কোথায় আইয়ুব খান? এদেশের মানুষ ভাষা আন্দোলন করেছে। বলা হল বাংলা রাষ্ট্রভাষা হবে না। কয়েকজন ছেলে বললো হবে না মানে? বাংলাই তো রাষ্ট্র ভাষা হবে। তারপর কয়েকজনকে জীবন দিতে হল। আর পাকিস্তান থাকতেই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হল।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আলোচনা সভায় ছিলেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য মিলু চৌধুরী, হাবিবুর রহমান, যুব ঐক্যের আহ্বায়ক মুহাম্মদ হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

[ad_2]

সরকার বিএনপি আতঙ্কে ভুগছে: ফখরুল

সরকার বিএনপি আতঙ্কে ভুগছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি নিয়ে সরকার সব সময় আতঙ্কে থাকে। আজ ১০ আগস্ট সকাল সোয়া ১০টার দিকে নয়াপল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সড়কে নৈরাজ্য বন্ধে রাজধানীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে পেশগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রসিকতা করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব।

আরো পড়ুন>> আবার রাস্তায় নেমেছে ‘ঘাতক’ পরিবহন জাবালে নূরের বাস

নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জবাব দিতে বাস মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটে কার্যত অচল ছিল সারাদেশ। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যাওয়ার পর সেই জটিলতার অবসান হয়েছে। রাজধানী ফিরেছে তার চেনারূপে। গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠেছে। নগরীরর রাস্তায় অন্যসব পরিবহনের ভিড়ে ‘ঘাতক’ জাবালে নূরের বাসও চলতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাজধানীর মিরপুর-বাড্ডা-বনশ্রী রুটে চলাচলকারী জাবালের নূর পরিবহনের বাস রাস্তায় নেমেছে। এ পরিবহনের একাধিক বাস রাস্তায় নেমেছে। তবে যাত্রী ওঠানামার জন্য আগের মতো দীর্ঘ সময় কোথাও অপেক্ষা না করে বাসগুলি দ্রুত চলাফেলো করছে।

মিরপুরের মাটিকাটা এলাকায় কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট বিকাশ সাহা জানান, সন্ধার পর থেকে জাবেলে নূরের বেশ কয়েকটি বাস রাস্তায় নেমেছে। এ পরিবহনের সব বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দূর্ঘটনায় দায়ী জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসেরই নিবন্ধন ও রুট পারমিট কেবল বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কাজেই এ সংস্থার অন্য বাসগুলোর চলাচল অাইনত কোনো বাধা নেই।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষিতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নেমে আসেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

[ad_2]

টিকিটের প্রত্যাশায় কমলাপুরে মানুষের ঢল

ঈদে বাড়ি যেতে হবে তাই যতো বিড়ম্বনাই হোক না কেনো ট্রেনের টিকিট কাটতেই হবে। সেজন্য কেউ মধ্যেরাত আবার কেউ ভোর রাত থেকে অবস্থান নিয়েছেন কামলাপুর রেল স্টেশনে। যারা আগেই টিকিট কেটে রেখেছেন তারাও ট্রেনে ওঠার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছেন। ফলে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে কমলাপুর রেল স্টেশনে। তবে কাঙ্খিত টিকেট না পাওয়ার অভিযোগও করছেন ঘরমুখো মানুষগুলো।

আজও কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে সকাল ৮টায়, কিন্তু এই টিকিট পেতে গত রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় টিকিট প্রত্যাশীরা। কমলাপুরে ২৬টি কাউন্টার থেকে একযোগে চলছে টিকিট বিক্রি। প্রতিটি টিকিট কাউন্টারের সামনে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। শুক্রবার তৃতীয় দিনের মতো কমলাপুরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে। আজ পাওয়া যাচ্ছে ১৯ আগস্টের টিকিট।

যারা টিকিট কিনতে গেছেন তাদের বেশিরভাগই গত রাত থেকে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে। মানুষের এই লাইন দীর্ঘ হয়ে স্টেশনের বাইরে গিয়ে ঠেকেছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোর কাউন্টারের সামনে।

আগামীকাল পাওয়া যাবে ২০ আগস্টের টিকিট আর ১২ আগস্ট মিলবে ২১ আগস্টের টিকিট। এই দিনগুলোতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি হবে।

[ad_2]

সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিকদের নিয়ে ওবায়দুল কাদের রসিকতা করছেন: ফখরুল

সড়কে নৈরাজ্য বন্ধে রাজধানীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে পেশগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রসিকতা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ ১০ আগস্ট সকাল সোয়া ১০টার দিকে নয়াপল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুন্সীগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মকবুল (৩৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব। আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার কুমারভোগ পদ্মা সেতু পুনর্বাসন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

র্যাব জানায়, এ ঘটনায় তাদের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলি, একটি ম্যাগাজিন , দুটি মোবাইল ফোন ও ৫০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

র্যাব-১১-এর কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহিতুল ইসলাম জানান, উপজেলার কুমারভোগ পদ্মা সেতু পুর্বাসন এলাকায় মাদকদ্রব্য বেচাকেনা হচ্ছে, গোপন সূত্রের মাধ্যমে এমন খবর পেয়ে আজ ভোর পৌনে ৪টার দিকে র্যাব অভিযান চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে র্যাবের গুলি বিনিময় ঘটে।

এ সময় চার-পাঁচজন মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ মকবুলকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। র্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, নিহত ব্যক্তির নামে ১২টির মতো মাদক মামলা রয়েছে।

[ad_2]

অর্থমন্ত্রীর আউট, কৃষিমন্ত্রী ইন – Diganta

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ১০ দিনের ছুটি পেয়েছেন। মন্ত্রী নিজেই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। ১৯৩৪ সালের ৬ অক্টোবর জন্ম নেয়া মুহিতের বয়স এখন ৮৩ বছর ১০ মাস তিন দিন। এই বয়সে কাজ করতে অনেকটা ক্লান্ত তিনি। এই ক্লান্তির কথা বলছিলেন তিনি নিজেই।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাজেট পাশের পর থেকেই আমি চেষ্টা করছিলাম কাজ একটু কম করার। টানা কাজ করার কারণে এনার্জি ক্ষয় হতেই থাকে। এই ক্ষয় হওয়া এনার্জি ফিরে পাওয়া সহজ নয়।

আজ থেকে আমার ১০ দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। আমি চেষ্টা করবো এই ১০ দিনের মধ্যে ক্ষয় হওয়া এনার্জি কিছুটা রিকুইট (ফিরে পাওয়ার) করার।রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ‘বাংলাদেশের জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকারণ কৌশলপত্র’ শীর্ষক কর্মশালায় অর্থমন্ত্রী তার এই ছুটির কথা জানান।

ছুটির সময় দুটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা জানিয়ে মুহিত বলেন, ছুটির সময়ে আমি দুটি অনুষ্ঠানে যাব বলে ঠিক করে রেখেছি। তা ছিল আজকেরটা, আরেকটা ১৮ তারিখ (আগস্ট)। আজকে এখানে আসতে আমার একটু দেরি হয়েছে, কারণ আমার ধারণা ছিল, সকালে একটু অফিসে যাব। ঘণ্টাদেড়েক কাগজপত্র… টাইম দেয়া…। রওয়ানা দিচ্ছি যখন তখন আমার সহধর্মিণী বললেন, হোটেল ওয়েস্টিনে প্রোগ্রাম আছে, সেহেতু এখানে এসেছি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ১০ দিন যে ফাইলগুলোতে অর্থমন্ত্রীর সই লাগবে সেগুলোতে সই করবেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে নিজ দফতর থেকেই মতিয়া এ কাজ করবেন। আর যে ফাইলগুলো প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যাবে, সেগুলো সচিবের মাধ্যমে সরাসরি চলে যাবে।

আজ (৯ আগস্ট) ওই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ডিএফআইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জেইন এডমন্ডসন প্রমুখ। উৎস- শীর্ষনিউজ

[ad_2]

ফের বৃহত্তর আন্দোলনের আশঙ্কা – Diganta

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আরও একাধিক বৃহত্তর আন্দোলনের আশঙ্কা করছে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা। এ জন্য তারা সরকারকে সচেতন থাকার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) তোপখানা রোডে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ছেড়ে ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

তবে বৈঠকে শরিকরা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে তাদের ক্ষোভের কথা জানায়। আইনে সর্বনিম্ন শাস্তি উল্লেখ না থাকাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকার কথাও বলে শরিকরা।

তারা আইনটি চূড়ান্ত করার আগে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্র“তি ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

১৪ দলের আগের বৈঠকের মতো বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের কঠোর সমালোচনা করা হয়। গাড়ির চালকসহ পরিবহন শ্রমিকদের বেপরোয়া হওয়ার জন্য তারা পরোক্ষভাবে নৌমন্ত্রীকেই দায়ী করে।

চালক হওয়ার জন্য ‘গরু-ছাগল-মানুষ আর রাস্তা চিনলেই হয়’ নৌমন্ত্রীর এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে শরিক দলের এক সদস্য বৈঠকে বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহন শ্রমিকরা আশকারা পেয়ে যায়।’

সূত্র জানায়, বৈঠকে জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, জাসদ সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া ও কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান নির্বাচনের আগে আরও আন্দোলনের আশঙ্কা করেন।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন কাঠামো, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, ‘গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনের দাবি নিয়ে সরকারকে নির্লিপ্ত মনে হচ্ছে।

সরকারের প্রতিশ্র“তিতে এমপিওভুক্তি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে গেলেও তারা আউটপুট না পেলে, আবারও রাজপথে নামতে পারে।

আর সুযোগ সন্ধানীরা এসব ইস্যু কাজে লাগাতে পারে। নির্বাচনের আগে সরকারকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেবল প্রশাসনিক ভাবে না করে এইসব বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

বৈঠকের পরে ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সড়কে আর নৈরাজ্য সহ্য করা হবে না ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। বি আরটিএ’র অবহেলা আর দেখতে চায় না জাতি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাসিম বলেন, ‘লাইসেন্স আর ফিটনেস ছাড়া কোনও গাড়ি যেন সড়কে চলতে না পারে, ট্রাফিক পুলিশকে সেই নির্দেশ দিতে হবে।’ মন্ত্রী এমপি যে-ই হোক, গাড়ির কাগজ না থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন নাসিম। তিনি বলেন, ‘বাস মালিক শ্রমিকদেরকে প্রয়োজনে জেলে ঢোকাতে হবে।’

আনিসুর রহমান মল্লিকের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া প্রমুখ অংশ নেন।

নির্বাচনে অনিয়ম বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছেন, ‘সিইসির বক্তব্যে অনিয়মকারীরা উৎসাহিত হবেন।’

বৃহস্পতিবার ( ৯ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসির দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ভবনে এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না-এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই।’

সিইসির ওই বক্তব্যের সূত্র ধরে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, “সিইসি একটি স্পর্শকাতর বিষয় এরাইজ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না-এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই।’

আমি ঠিক জানি না সিইসি কেন, কোন প্রেক্ষাপটে কথাটা বলেছেন। এটি তার ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। তবে আমি তার এই কথার সঙ্গে মোটেই একমত নই। আগামী জাতীয় নির্বাচনে যারা অনিয়ম করতে চায়, তারা সিইসির এই ধরনের কথায় উৎসাহিত হতে পারেন।”

এদিকে, বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে ওই বক্তব্যের জের ধরে সিইসিকে আরও সংযত হয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বাস্তবতায় সিইসি হয়তো মনে করেছেন, এটাই সত্য। কিন্তু তিনি একটি বড় দায়িত্বে আছেন, তার সংযত হয়ে কথা বলা উচিত।’

[ad_2]

সিইসির সাথে দ্বিমত নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের

নির্বাচনে অনিয়ম বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছেন, ‘সিইসির বক্তব্যে অনিয়মকারীরা উৎসাহিত হবেন।’

বৃহস্পতিবার ( ৯ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসির দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ভবনে এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না-এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই।’

সিইসির ওই বক্তব্যের সূত্র ধরে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, “সিইসি একটি স্পর্শকাতর বিষয় এরাইজ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না-এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই।’

আমি ঠিক জানি না সিইসি কেন, কোন প্রেক্ষাপটে কথাটা বলেছেন। এটি তার ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। তবে আমি তার এই কথার সঙ্গে মোটেই একমত নই। আগামী জাতীয় নির্বাচনে যারা অনিয়ম করতে চায়, তারা সিইসির এই ধরনের কথায় উৎসাহিত হতে পারেন।”

এদিকে, বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে ওই বক্তব্যের জের ধরে সিইসিকে আরও সংযত হয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বাস্তবতায় সিইসি হয়তো মনে করেছেন, এটাই সত্য। কিন্তু তিনি একটি বড় দায়িত্বে আছেন, তার সংযত হয়ে কথা বলা উচিত।’

১৪ দলের বৈঠকে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের আশঙ্কা

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আরও একাধিক বৃহত্তর আন্দোলনের আশঙ্কা করছে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা। এ জন্য তারা সরকারকে সচেতন থাকার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) তোপখানা রোডে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ছেড়ে ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

তবে বৈঠকে শরিকরা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে তাদের ক্ষোভের কথা জানায়। আইনে সর্বনিম্ন শাস্তি উল্লেখ না থাকাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকার কথাও বলে শরিকরা।

তারা আইনটি চূড়ান্ত করার আগে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্র“তি ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

১৪ দলের আগের বৈঠকের মতো বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের কঠোর সমালোচনা করা হয়। গাড়ির চালকসহ পরিবহন শ্রমিকদের বেপরোয়া হওয়ার জন্য তারা পরোক্ষভাবে নৌমন্ত্রীকেই দায়ী করে।

চালক হওয়ার জন্য ‘গরু-ছাগল-মানুষ আর রাস্তা চিনলেই হয়’ নৌমন্ত্রীর এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে শরিক দলের এক সদস্য বৈঠকে বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহন শ্রমিকরা আশকারা পেয়ে যায়।’

সূত্র জানায়, বৈঠকে জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, জাসদ সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া ও কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান নির্বাচনের আগে আরও আন্দোলনের আশঙ্কা করেন।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন কাঠামো, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, ‘গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনের দাবি নিয়ে সরকারকে নির্লিপ্ত মনে হচ্ছে।

সরকারের প্রতিশ্র“তিতে এমপিওভুক্তি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে গেলেও তারা আউটপুট না পেলে, আবারও রাজপথে নামতে পারে।

আর সুযোগ সন্ধানীরা এসব ইস্যু কাজে লাগাতে পারে। নির্বাচনের আগে সরকারকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেবল প্রশাসনিক ভাবে না করে এইসব বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

বৈঠকের পরে ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সড়কে আর নৈরাজ্য সহ্য করা হবে না ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। বি আরটিএ’র অবহেলা আর দেখতে চায় না জাতি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাসিম বলেন, ‘লাইসেন্স আর ফিটনেস ছাড়া কোনও গাড়ি যেন সড়কে চলতে না পারে, ট্রাফিক পুলিশকে সেই নির্দেশ দিতে হবে।’ মন্ত্রী এমপি যে-ই হোক, গাড়ির কাগজ না থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন নাসিম। তিনি বলেন, ‘বাস মালিক শ্রমিকদেরকে প্রয়োজনে জেলে ঢোকাতে হবে।’

আনিসুর রহমান মল্লিকের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া প্রমুখ অংশ নেন।

[ad_2]